২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

‘নুসরাতকে ভুলে গেছি, আবরারকেও ভুলে যাবো

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯

‘নুসরাতকে ভুলে গেছি, আবরারকেও ভুলে যাবো

কোতয়ালী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ উত্তাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রতিবাদের ঝড়। দলমত নির্বিশেষে আবরারের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করছেন সবাই। বাদ নেই শোবিজের মানুষজনও। তারাও প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।

গুনী অভিনেত্রী, গায়িকা ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুকে এই বিষয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস লিখেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারাজীবন তার মুখে গর্বের সাথে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যেকোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে। 

এ প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরারের কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দুটোর পিঠ হাত-পা’র ওপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এরকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে!

একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল? ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনি ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মার কথা মনে পড়েনি। ঠিক কতবার। কতক্ষণ ধরে, কতটুকু আঘাত করলে ২০-২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়। আমি আর ভাবতে পারি না। ফেসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কী ভয়ংকর! কী নৃশংস! কী কষ্ট!

এ ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনি অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ। নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি। আবরারকেও ভুলে যাব বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না তবুও বিচার চাই।’

উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। সেই মারধরেই মৃত্যু হয় আবরারের।