১৫, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

দৌলতখানে বৃদ্ধ দম্পতি সহ ছয় জনকে পিটিয়ে আহত

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯

দৌলতখানে বৃদ্ধ দম্পতি সহ ছয় জনকে পিটিয়ে আহত

মোঃ হাছনাইন দৌলতখান(ভোলা)প্রতিনিধি,

ভোলার দৌলতখানে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফরমুজল হক (৬০), তার স্ত্রী শাহানুর বেগম (৫০), মেয়ে ফেরদাউস(২৫), জান্নাত(২০), সহ চাচাতো ভাই মৃত আঃ সালামের স্ত্রী জহুরা খাতুন(৪০), ও তার মেয়ে ফাহিমকে (১৭), পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাজির হাট সংলগ্ন মাঝি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ফরমুজল হকের মেয়ে সুলতানা জানান, তার মৃত চাচার স্ত্রী জহুরা খাতুনের সাথে প্রতিপক্ষ আওলাদ মাঝি ও আলিম মাঝি গংদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। কিছুদিন পূর্বে জহুরা খাতুনের বাগান থেকে আওলাদ মাঝি ও আলিম মাঝি গংরা সুপারি পারে। এর জের ধরে জহুরা খাতুন ভোলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে । সকালে প্রতিপক্ষ আওলাদ মাঝি ও আলিম মাঝি গংরা জহুরা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে মামলা করায় বিষয় নিয়ে বাকবিতান্ডা হয়। তখন জহুরা খাতুনের মেয়ে ফাহিমা এগিয়ে আসে। এগিয়ে আসলে জহুরা খাতুন ও তার মেয়ে ফাহিমাকে আওলাদ মাঝি ও আলিম মাঝি গংরা বেধড়ক মারধর করে।

এসময় সুলতানার বোন জান্নাত তাদের বাকবিতান্ডা ও মারধরের ভিডিও ধারণ করে। প্রতিপক্ষ আওলাদ মাঝি ও আলিম মাঝি গংরা তার ভিডিও ধারণ করার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইলটি নিয়ে যায়।

পরে সুলতানার বাবা ফরমুজল হক তার স্ত্রী শাহানুর বেগম প্রতিবাদ করতে আসলে তাদের পিটিয়ে আহত করে। এদিকে সুলতানার বাবা মা ও বোন কে মারধর করতে দেখে মেয়ে ফেরদাউস ও সুলতানা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে বলে সুলতানা জানান।

অন্যদিকে আওলাদ মাঝি জানান, জহুরা খাতুনের দায়েরকৃত মামলায় অনেক নির্দোষ লোকের নাম দিয়েছে। ওইদিন সে বিষয় তার সাথে আলাপ করতে গেলে জান্নাত তাদের ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণ করতে দেখে তার ভাই আলিম মাঝি জান্নাতের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। মোবাইল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরমুজল হক এসে তার ভাই আলিম মাঝিকে মারধর করে। এই মারধর করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে মারপিট হয়।

খবর পেয়ে দৌলতখান থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) রিয়াজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দৌলতখান চরপাতা ইউপি আথলীগের সভাপতি কাজল তালুকদার জানান, ঘটনার সময় আমি একটি সালিশে ছিলাম । তবে মারধরের ঘটনাটি আওলাদ মাঝি আমাকে জানিয়েছেন।

দৌলতখান থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) খান মো. বোরহান জানান, শুক্রবার আমার ডিউটি ছিল। তখন ৯৯৯(ত্রিপোল নাইনে) একটি কল আসে। কলের মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলার চরপাতায় মরধরের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

দৌলতখান থানার (ওসি) তদন্ত রফিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।