২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কুমিল্লার মুরাদনগরে আদালতের নির্দেশে চারমাস পর গৃহবধূ লাইলীর লাশ উত্তোলন করা হয়

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯

কুমিল্লার মুরাদনগরে আদালতের নির্দেশে  চারমাস পর গৃহবধূ লাইলীর লাশ উত্তোলন করা হয়

মোঃশাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (দেবিদ্বার প্রতিনিধি, কুমিল্লা)
কুমিল্লার মুরাদনগরে আদালতের নির্দেশে অবশেষে গৃহবধূ লাইলী আক্তারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার মাস পর মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য উপজেলার পৈয়াপাথর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। 
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল,পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর হিলাল উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গনমাধ্যম কর্মীরা ও এলাকার বিপুল সংখ্যক লোকজন  লাশ উওোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন।মামলার অভিযোগে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পুর্বে জেলার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার ষাইটশালা গ্রামের জিবন মিয়ার কন্যা লাইলী আক্তারের সাথে মুরাদনগরউপজেলার পৈয়াপাথর গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে রুবেল মিয়ার সামাজিক বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুটি কন্যা এবং একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিককলহের জের ধরে চলতি বছরের গত ২০ মে রুবেল মিয়া ও তার দুইভাইসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে তার স্ত্রী লাইলী আক্তারকে ব্যপক মারধর করে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধারে করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রেরন করে। গত ২৬ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে লাইলীর মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তরিগড়ি করে ওই গৃহবধূর লাশ দাফন করে ঘাতকরা। এ নিয়েলাইলীর মা জামিলা খাতুন ৭ জুলাই আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি থানায় এজহারভ‚ক্ত করে তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে পিবিআই মামলার প্রধান আসামী রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল পিবিআইয়ের কাছে ঘটনার গুরুত্বপুর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে করে বলে জানা যায়। তবে তাকে কোন প্রকার নির্যাতন এবং মারধর হরা হয়নি এমনটি জানিয়ে গ্যাসের চুলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে লাইলীর মৃত্যু হয়েছে বলে আসামীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। 
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূ লাইলী আক্তারের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন প্রধান ঘাতক রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত করে বাকী আসামীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।