৬, জুলাই, ২০২০, সোমবার | | ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে অব্যাহতি

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে অব্যাহতি

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অব্যাহতি দেয়া হলো যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে। রোববার (২০ অক্টোবর) গণভবনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বৈঠকে দুর্নীতির অভিযোগে যুবলীগ থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। যুবলীগ নেতাদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ বছর। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে কংগ্রেস কমিটির আহ্বায়ক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদকে কংগ্রেস কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আগামী সম্মেলন পর্যন্ত যুবলীগের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

এদিকে, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও এমনটি দাবি করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। তবে গুঞ্জন আছে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হতে পারে। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যারিস্টার তাপসকে অভিনন্দন জানানো শুরু করেছেন সরকার দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।

তাপস হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে।

এদিন বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করতে যান যুবলীগ নেতারা। সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা ছাড়াই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার পর বৈঠকটি শুরু হয়। সেখানে আগে থেকেই ওমর ফারুক চৌধুরীকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও নিষেধ করা হয়েছে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপিকে।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকটা টালমাটাল অবস্থা যুবলীগে। এ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুবলীগের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা। এরপর থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস আসন্ন হলেও যাচ্ছেন না সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে। এর মধ্যে তাকে ছাড়াই প্রেসিডিয়ামের মিটিং হয়েছে। সেই মিটিং থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ও তার নির্দেশনা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।