১৩, জুলাই, ২০২০, সোমবার | | ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

আন্দোলনের তোপে পরে শতবর্ষী বটগাছ ও পুকুর রক্ষার সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯

আন্দোলনের তোপে পরে শতবর্ষী বটগাছ ও পুকুর রক্ষার সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শতবর্ষী বটগাছ ও পুকুর ভরাট করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে ২২ শে অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীন ক্যাম্পাসের নেতৃত্বে উদীচী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্রিয়াশীল সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বটগাছকে হুমকিমুক্ত রেখে এবং পুকুর ভরাট না করে প্রস্তাবিত সুবিশাল স্থাপনা পুকুরের দক্ষিণ পার্শ্বে স্থাপনের দাবীতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। ইতিপূর্বে এই কর্মসূচীর মনোনীত প্রতিনিধি দল মাননীয় উপাচার্যের সাথে দেখা করে ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে তাদের চারদফা দাবীসহ স্মারকলিপি প্রদান করেছে। উপচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একত্মতা পোষণ করে বটগাছ ও পুকুর রক্ষা করে প্রস্তাবিত ভবনের নকশায় পরিবর্তন আনতে সম্মত হন। শিক্ষার্থীরা নতুন নকশা প্রনয়ণের সময় তাদের প্রতিনিধি থেকে অন্তত দুইজনকে রাখার আহ্বান জানায়। উপাচার্য মহোদয় এই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করে নতুনভাবে নকশা প্রণয়নের আশ্বস্ত করেন যে, নতুন নকশা প্রণয়নের সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভূক্ত করবেন এবং যে কোন মূল্যে বটগাছ রক্ষা ও পুকুর ভরাট না করে নকশা প্রণয়ন ও স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দিবেন। কিন্তু উপাচার্য মহোদয় তার দেয়া প্রতিশ্রুতি কে পাশ কাটিয়ে, শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আরেকটি ধ্বংসাত্মক ও প্রকৃতি বিনাশী পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। এবং পুকুর ও শতবর্ষী বটগাছ ধ্বংস করেই ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এমতাবস্থায় আন্দোলনরত সংগঠন সমূহ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য জয়বাংলা চত্বরে মানব বন্ধন আয়োজন করে এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিলসহ অবস্থান করে। বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন সকাল ১১টার পরিবর্তে উদ্বোধনের সময় পিছিয়ে দিয়ে বিকেল ৪টায় নির্ধারণ করলেও ৩রা অক্টোবর ২০১৯ তারিখের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। কিন্তু প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও তাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরবর্তীতে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪ই অক্টোবর ২০১৯ তারিখে অনেকটা গোপনে ভবন উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক শিক্ষার্থী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সামনে প্রতিবাদী ব্যানার ও তাদের প্রস্তাবিত স্থানে ভবনের নকশাসহ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। উপাচার্য মহোদয় তাদের যৌক্তিক দাবী অগ্রাহ্য করে ও তুমুল প্রশংসা করে এবং নিজ সিদ্বান্তে অটল থেকে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। শিক্ষার্থীরা এই আচরণের প্রতিবাদে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মোনাজাতে অংশ না নিয়ে সেখানেই মাটিতে বসে পড়েন এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।

উদ্বোধন হয়ে গেলেও প্রশাসনের এমন প্রাণ-প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও প্রকৃত উন্নয়ন বিরোধী আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দেলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে সাংস্কৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ তিন দিন ব্যাপী লালন স্মরনোৎসব। চারুদ্বীপের শতবর্ষী বটগাছ ও পুকুর রক্ষার্থে দুই দিন ব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

উল্লেখ্য যে এই অপঃ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আরো ৯৬ টি ফলদ-বনজ-ঔষধি বৃক্ষ চাপা পড়বে এই ভবনের তলায়। নতুন নকশায় বটগাছের তিনদিকে বিশাল দশতলা ভবন ও এক চিলতে পুকুরের নামে জলাধার রাখার কথা বলা আছে, যা মূলত গাছ ও পুকুর রক্ষার নামে তিলে তিলে ধ্বংস করারই পরিকল্পনা। নির্মাণ চলাকালীন সময়েই বটগাছ ও পুকুর বিলীন হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী বটগাছকে সম্পূর্ণ হুমকিমুক্ত ও পুকুর ভরাট না করে পুকুরের দক্ষিণে (আনুমানিক ২০০ ফিট সরিয়ে) ভবন নির্মাণের পক্ষে উত্থাপিত দাবী সমূহ হলো :

১.        চারুদ্বীপের পুকুর সংরক্ষণ, খনন ও পাড় বাঁধাইয়ের মাধ্যমে একে ব্যবহার উপযোগী ও নান্দনিক করে তো।

২.       শতবর্ষী বটগাছটিকে ধ্বংসের হুমকি মুক্ত করা।

৩.       উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের ব্যাপক স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা।

৪.       পুকুর ও বৃক্ষরাজি অক্ষত রেখে প্রস্তাবিত ভবন দ্রুততম সময়ে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহন করা।

উপরোল্লেখিত দাবী বাস্তবায়নের জন্য ২২শে অক্টোবর ২০১৯ ইং মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয় (প্রশাসনিক ভবন) এর সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী চিত্র প্রদর্শনী আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী এবং শুভাকাংখীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পুকুর ও বটবৃক্ষ অক্ষত রেখে ভবন নির্মাণের জন্য তিনি আগামী ২৮/১০/১৯ তারিখে ওয়ার্কস কমিটির বৈঠকে বসবেন এবং আমাদের যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিবেন। উপাচার্যের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে গ্রীন ক্যাম্পাসের সভাপতি(ভারপাপ্ত) আশরাফ শুভ বলেন উপাচার্য মহোদয়ের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে আমাদের মাসব্যাপী আন্দোলন আগামী ২৯/১০/১৯ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হলো।