২২, জানুয়ারী, ২০২১, শুক্রবার | | ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ফুলবাড়িয়ায় পিতার ঘাড়ে চার প্রতিবন্ধী মেয়ে

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯

ফুলবাড়িয়ায়  পিতার ঘাড়ে চার প্রতিবন্ধী মেয়ে

  ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের  চৌরঙ্গিরপার এলাকার  হতদরিদ্র বয়োবৃদ্ধ এক পিতার ঘাড়ে চার প্রতিবন্ধী। টিনের ছাউনির চারচালা ২০হাত ঘরে প্রতিবন্ধি মেয়েদের সাথে নিয়ে বাবা মাএকসাথে ওই ঘরে মাথা গোঁজান। সামনে ছোট পরিসরের  সেঁতসেঁতে আঙিনা। এখানেই পা বিছিয়ে দিয়ে বসে আছেন ইব্রাহীম (৬৫) এর শারীরিক   বিকলাঙ্গ   ৪ প্রতিবন্ধী মেয়ে মিনা পারভীন  (৩৫) বিউটি (২০)তাপসী (১৫) শাবনূর (১১)।একরকম গড়িয়ে গড়িয়েই চলাফেরা করে তারা।। এতে করে তাদের পার্যায়ের মধ্যে  কালচে দাগ  ও পায়ের আঙ্গুল অনেকটা থেতলে হয়ে গেছে। অসহায় এই পিতার ৫মেয়ের মধ্যে চার জনই প্রতিবন্ধি

কেউই দাঁড়াতে পারেনা, নিজের সাহায্যে চলতে খেতে পারেনা। প্রসাব, পায়খানা, গোসল খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই বাবার সাহায্য করতে হয়।মানসিক ভারসাম্যহীন মা যেন থেকেও নেই। বেশিরভাগ সময়ই বাবার বাড়িতে কাটান তিনি।একটু মনমালিন্য হলেই চলে যান বাপের বাড়ি। সকাল থেকে রাত অবধি মেয়ের পিছনে সেবাযতœ নিতে  ব্যস্ত থাকতে হয় ইব্রাহীম মিয়ার।

অসহায় ইব্রাহীমের পরিবারের জীবন চলছে কঠিন দারিদ্রতায়, কোন দিন খেয়ে আবার কোন দিন অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদেরএই পরিবার ।  আর এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় পিতা। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বার্ধ্যকে নুয়ে পড়া  অসহায় পিতাএকদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করলে আরেক দিন কাজ করতে পারেনা। মূলত প্রতিবন্ধি ভাতা ও মানুষের সাহায্যেই কোনরকমে চলছে তাদের  অসহায়ত্বের সংসার।

নিয়মিত গোসল, কাপড় পরিদান, দাত মাজা হয়না এই পরিবারের তিবন্ধি সদস্যদের।

ছোট মেয়ে বিউটি বলেন, আব্বার কষ্ট সহ্য করতে পারিনা। এখন আব্বার  বয়স হয়েছে আমাদের এখন টানা হেঁচড়া করতে তার কষ্ট হয়। আমাগরে টিউবওয়েল নাই আব্বা  দূরের পুকুর থেইক্কা  বালতি দিয়া  পানি নিয়ে এসে আমগরে গোসল করায়।তাঁর এই কষ্ট দেখে মরে যেতে ইচ্ছা হয়। সরকার যদি আমাদের দেখা শুনা করার কোন ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আব্বার কষ্ট কমে যেতো।

ইব্রাহিম বলেন, আমার এখন বয়স হয়েছে ঠিক মতো কাজ কাম করতে পারিনা।শরীরের  সাধ্য না থাকলে ও মেয়েদের মুখে ভাত, তেল, সাবান, জামাকাপড় তুলে দিতে মাঝে মধ্যে কাম করতে হয় ।  সরকার যে টাকা ভাতা দেয় এতে ওদের খাবার দাবার হয়না। আগের দিন কাম করলে পরের দিন অসুস্থ হয়ে যাই।আমি  যতদিন বেঁচে থাকি ততোদিন তাদের দেখাশোনা করে যাবো । কিন্তু আমি মরে গেলে এদের  কি হবে। কাজেই আমি থাকাকালীন  ওদের একটা ব্যবস্থা হলে ভালো হতো।