১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পটুয়াখালীতে শিশুকে জীবন্তকবর দেয়ার চেষ্টা

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯

পটুয়াখালীতে শিশুকে জীবন্তকবর দেয়ার চেষ্টা

পটুয়াখালীতে বাতাবি লেবু চুরির ঘটনা প্রকাশেরজেরে আহাদ তালুকদার নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীকে জীবন্ত কবর দেয়ার পরিকল্পনাকরেছে তার সহপাঠীরা। এ সময় প্রতিবেশীরাদেখে ফেলায় শেষ রক্ষা পায় ওই শিশুটি। রোববারপটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নেরপাকার্তিকপাশা গ্রামের মো. সাদের হাওলাদার বাড়িতে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজকরছে। এদিকে ভিকটিম শিশুটির পরিবার পুলিশের কাছেআইনি সহায়তা চাওয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়েছে ওইছাত্রের সহপাঠীদের পরিবার। আহাদ শ্রীরামপুরমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভিকটিমশিশু আহাদ জানায়, বেশ কিছুদিন পূর্বে আহাদের দাদাইউছুব তালুকদারের গাছ থেকে বাতাবি লেবু চুরি করেখায় তার সহপাঠী মিঠাপুর মাদ্রাসার সপ্তমশ্রেণির ছাত্র ও প্রতিবেশী জাকারিয়া, মৌকরন মাধ্যমিকবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র জিহাদ। এ ঘটনাদেখে আহাদ তার দাদার কাছে জানায়। চুরির ঘটনায় দাদাইউছুব আলী জিহাদ ও জাকারিয়াকে মৌখিক ভাবে শাসনকরেন। এ ঘটনার জেরে আহাদকে মেরে ফেলারপরিকল্পনা করে তারা। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়িরপাশে জাকারিয়ার চাচা আবদুল সালাম হাওলাদারের পরিত্যক্তএকটি ঘরের মধ্য মাটি খুড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে।রোববার বেলা ১১টার দিকে আহাদকে কিছু খাবারেরকথা বলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দোকানে নিয়ে যায়।সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পরিত্যক্ত ওইবাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের তৈরি করা কবরেরকাছে জোরপূর্বক নিয়ে যেতে চাইলে তাদেরবাকবিতণ্ডা হয়বলে জানায় আহাদ। জোর জবরদস্তির একপর্যায়জাকারিয়ার চাচাতো ভাই নাসির ও চাচী নেহারঘটনাস্থলের পাশের রাস্তা দিয়ে গেলে জাকারিয়া ওজাহিদ দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে জাকারিয়া বিষয়টি তার মা ওপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানায়। খবর পেয়েসদর থানার এএসআই শামীম আকন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ততক্ষণে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও গণ্যমান্যরাবিষয়টি মীমাংসার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় আহাদেরমা ফরিদা বেগম জানায়, তুচ্ছ ঘটনার জেরেপ্রতিবেশী আলাল উদ্দিনের ছেলে জিহাদ ওজাফরের ছেলে জাকারিয়া তার শিশুপুত্র আহাদকেজীবন্ত কবর দিয়ে মারা চেষ্টা করেছে।ঘটনাক্রমে সেখানে লোকজন উপস্থিত না হলেআজ তা ছেলেকেসত্যিই কবর দিয়ে দিত। তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকটিআগে আরও একটি তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিবেশী হানিফহাওলাদারে গরুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমকরে। এর কিছুদিন পূর্বে জাফরের বড় ছেলে জাহিদতার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করেনিয়ে যায়। তাদের সন্তানদের শাসন করার বদলে উৎসাহদিয়ে আসছে। যে কারণে বড় ধরনের অপরাধেলিপ্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাকারিয়ার মা রেনু বেগমঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার ছেলেস্কুলের কথা বলে এই কাজ করবে তা তিনি বুঝতেপারিনি। এটা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করব।জাকারিয়ার বৃদ্ধ দাদা ইউছুব আলী তালুকদার অভিযোগকরেন, উল্লিখিত ঘটনা পুলিশকে জানালে তারা আরওক্ষিপ্তহয়ে তাদের দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।