১, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১৩ সফর ১৪৪২

আজ ৭ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক যশোরের খাজুরা মুক্ত দিবস

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৮

আজ ৭ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক যশোরের খাজুরা মুক্ত দিবস

আজ ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে খাজুরা মুক্ত হয়। রাতভর খন্ড খন্ড আক্রমনের পর ৬জন মিত্র বাহিনীর সদস্যের জীবনের বিনিময়ে রাজাকার মুক্ত হয়েছিলো খাজুরা এমএনমিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রাজাকার ক্যাম্প। এই দিনের পর থেকে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর হত্যা, লুট ও নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পায় এই অঞ্চলের অসহায় মানুষ।

জানা যায়, তৎকালীন যশোর ক্যান্টমেন্ট রাজাকার ঘাঁটি ধ্বংসের পরদিনই খাজুরার এই শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করে মুক্তি ও মিত্র বাহিনী। কিন্তু শক্র মুক্ত হওয়ার আগেই মিত্র বাহিনীর ৬জন সদস্যের জীবন কেড়ে নেয় পাসন্ড রাজাকারেরা। ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত করার রাতেই মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য ছিল খাজুরা এমএনমিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত রাজাকার ক্যাম্পটি দখল করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ রাতেই উক্ত ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে মিত্র বাহিনীর সদস্যরা। কিন্ত ঐ রাতেই পূর্বেই যশোর মুক্ত হওয়ার সংবাদ শুনে অনেক রাজাকার সদস্য ক্যাম্পে হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। যে কারনে মুক্তি বাহিনীর সদস্যদের সেদিন ক্যাম্প আক্রমন করাটা সহজ হয়েছিলো। রাত ঘনীভূত হওয়ার পরপরই ক্যাম্পটিতে আক্রমন শুরু করে মিত্র বাহিনী। একের পর এক আক্রমন করেও ঘায়েল করতে পারেনি রাজাকারদের। চারপাশে প্রাচীর ঘেরা বেষ্টিত ছিলো বিধায় ক্যাম্পটিতে আক্রমন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল মুক্তি বাহিনীরা। তারপরও শক্র পক্ষকে ঘায়েল করতে বারবার আক্রমন চালায় তারা এবং উল্টো দিক থেকে পাল্টা গুলি চালায় রাজাকার ও পাকবাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে ভোর পেরিয়ে সকাল ৯টা পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর কোন পক্ষ কাউকেই ঘায়েল করতে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী লেবুতলা মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্পে ট্যাংক রেখে আরো সদস্য নিয়ে স্থল পথে খাজুরা এমএনমিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ প্রাচীরের পাশে দাড়িয়ে একযোগে সমস্বরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পাক বাহিনীকে আত্মসমর্থন করতে বলে। এসময় রাজাকার ক্যাম্পের সদস্যরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তারাও জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আত্মসমর্থনের কথা বলে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীদের প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করতে বলে। শত্রু পক্ষের দুরভিসন্ধির কথা না ভেবেই মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর ১০/১২ জনের একটি একটি সাহসী বাহিনী ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই প্রাচীর ঘেসে লুকিয়ে থাকা রাজাকারের দল তাদেরকে লক্ষ্য একাধারে গুলি বর্ষন করতে থাকে। সাথে সাথে পাখির মত ঝরে পড়ে নাম না জানা ৬জন মিত্র বাহিনীর সদস্যর জীবন। রক্তে রঞ্জিত হয় বিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর। তরতাজা সাথীদের জীবন রক্ষা করতে না পেরে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে মুক্তি বাহিনীর বাকী সদস্যরা।

যে কারনে কিছু সময় যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও এই খবর লেবুতলা ক্যাম্পে পৌঁছানো মাত্রই ছুটে আসে মুক্তি বাহিনীর চৌকস একটি দল। এসময় মুক্তি ও মিত্র বাহিনী একই স্থানে উপস্থিত হয়ে যৌথভাবে স্কুলের প্রাচীর ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ে। ট্যাংকের চাপায় ও মর্টারের মুহুমুহু গুলিতে পরাস্ত করে হানাদার বাহিনী ও দেশীয় নরপিশাচ রাজাকারদের। দিক বিদিক পালাতে থাকে রাজাকার সদস্যরা। অনেকেই পার্শ্ববর্তী চিত্রা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাতরিয়ে ওপারে পালিয়ে যায়। মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর আক্রমনের সাথে যুক্ত হয় স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এসময় জয় বাংলা স্লোগানে শুরু হয় বিজয় উল্লাস। খাজুরার আকাশে স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে আনন্দ উল্লাস করে কয়েক হাজার মুক্তকামী মানুষ।

এদিকে আজ দিনটিকে ঘিরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও একাত্তর প্রজন্মের উদ্যোগে পালিত হবে নানা কর্মসূচী। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ১০টায় র‌্যালী, আলোচনা সভা এবং বিকালে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।