৩, জুন, ২০২০, বুধবার | | ১১ শাওয়াল ১৪৪১

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ বিদুৎ বিহীন হাজারো মানুষ নভেম্বর

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ বিদুৎ বিহীন হাজারো মানুষ নভেম্বর

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি :ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিল উপকূলের অধিকাংশ জেলা। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ এবং বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও খুলনা জেলার অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, আজ মঙ্গলবার নাগাদ অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ঝড়ে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দুই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ বিভাগে দেওয়া পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ঝড়ে বরিশাল-মাদারীপুর ১৩২ কেভি এবং বাগেরহাট-ভাণ্ডারিয়া ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন দুটির ওপর গাছ পড়ে ট্রিপ করায় বরিশাল, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলা পুরোপুরি বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ লাইন দুটি চালু করা সম্ভব হয়।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দাবি করেছে, গতকাল বিকেল ৩টা নাগাদ তাদের আওতাধীন সব উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত ৪৭ হাজার কিলোমিটার লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তদারকির দায়িত্বে থাকা আরইবির এক প্রকৌশলী জানান, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ তারা ৩৭ হাজার কিলোমিটার লাইন চালু করতে পারবেন। অবশিষ্ট ১০ হাজার কিলোমিটার লাইন চালু করতে তাদের মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ১০ হাজার কিলোমিটার লাইনে অন্তত ৭ লাখ গ্রাহক রয়েছে। তিনি জানান, রোববার সকালেই তারা মাঠে নামেন। কিন্তু রাস্তায় গাছ পড়ে থাকার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের কারণে তারা বিকেলের আগে কাজ শুরু করতে পারেননি।

বরিশাল ব্যুরো জানিয়েছে, বরিশাল জেলার দুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন ১০ উপজেলার মধ্যে সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও অন্ধকারে রয়েছে ৮ উপজেলা। বিদ্যুৎহীন রয়েছে বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা। ভোলার লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও চরফ্যাসন উপজেলার দুই লক্ষাধিক গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎহীন। ওই তিন উপজেলায় আজ মঙ্গলবারের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৯টি খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং ১৬টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল, দশমিনা, মীর্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ঝালকাঠির নলছিটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বরগুনা জেলা শহর রয়েছে অন্ধকারে। জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী ও তালতলী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মফিজুর রহমান জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় জেলার স্বরূপকাঠি, কাউখালী, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ উপজেলাগুলোতে সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগবে। এ ছাড়া যশোরের কেশবপুরে প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে ঝালকাঠি, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

আরইবির তরফ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুলবুলের প্রভাবে তাদের ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুই হাজার খুঁটি উপড়ে পড়ে। ঝড়ের পর ৯৩  হাজার কিলোমিটার লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় আরইবি। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আরইবির এক কর্মকর্তা।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) জানিয়েছে, সোমবার বিকেলের মধ্যে তাদের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে ঝড়ের কারণে তাদের ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় এবং পরে ছয় লাখ গ্রাহককে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখেন। ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন বলেন, ঝড়ে তাদের এক হাজার ১৩৩টি খুঁটি পড়ে গেছে। ২১১ কিলোমিটার লাইন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৯টি ট্রান্সফরমার এবং এক হাজার ৩৬১টি ইনসুলেটর নষ্ট হয়েছে।

পিডিবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুলবুলের প্রভাবে তাদের ৬৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিতরণ লাইনের মধ্যে ৩৩ কেভির চার কিলোমিটার লাইন এবং তিনটি টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১ কেভির আড়াই কিলোমিটার লাইন এবং ১১টি খুঁটি পড়ে গেছে। দশমিক ৪ কেভির সাড়ে ১২ কিলোমিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি ট্রান্সফরমার এবং ইনসুলেটর নষ্ট হয়েছে। তবে কিছু যায়গায় বিদুৎ সরবরাহ দেওয়া শুরু হয়েছে তারপরেও অধিকাংশ যায়গায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অধিকাংশ হওয়াতে হিমসীম খেতে হচ্ছে বিদুৎ বিভাগকে ।