১৩, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

আনন্দে ভরে উছিলো লক্ষিপুরের স্কুলে

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯

আনন্দে ভরে উছিলো লক্ষিপুরের স্কুলে


মেহেদী হাসান শিয়াম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ শীতের আগমনে নানা উৎসবে মাতে গ্রাম বাংলার মানুষ। যা এখন বিলুপ্ত প্রায়। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলিকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বারোঘরিয়া এলাকার লক্ষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে পিঠা উৎসবের।নাচ-গান, মজার মজার জোকসে আর মজাদার সব পিঠা নিয়ে জমে উঠে উৎসব। দিনভর জমজমাট এ উৎসবে যোগ দেয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও।
শীতকালে পিঠার আয়োজন গ্রাম-বাংলার অন্যতম একটি উৎসব। এ সময়টাই প্রায় সব বাড়িতেই কমবেশি নতুন ধানের পিঠা-পুলি বানানো হলেও; এ উৎসব একটু অন্যরকম। গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীর ছেলে-মেয়েদের মনে আনন্দ দেয়ার জন্য নাচ-গান ও পিঠা উৎসবের এই আয়োজন করেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা।কেউ দিয়েছে আটা আবার কেউ দিয়েছে চিনি এভাবে শিক্ষার্থীরা পুরনো ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে পিঠা পুলির উৎসবের আয়োজন করে
এদিকে উৎসবকে উৎসাহিত করতে অংশ নেয় এলাকার ছাত্র-ছাত্রী ও উৎসাহী বিভিন্ন পেশার মানুষরা। ধান থেকে ঢেঁকিছাঁটা চাল যাঁতায় পিষে সেই আটা থেকে তৈরি করা হয় হরেক রকম পিঠা। আর সেই পিঠা খেতে আসা অতিথিদের গ্রাম বাংলার গীত গেয়ে আনন্দ দেয় ছাত্র-ছাত্রীরা। পাশাপাশি শেখানো হয় কিভাবে পিঠা বানাতে হয়। এ কারণে ছেলে-মেয়েদের আনন্দের মাত্রাটাও বেশি। যার জন্য অপেক্ষা করে সারাবছরই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, নতুন ধান উঠার পরে এই ধরনের পিঠা উৎসব হয়ে থাকে প্রতিবছর গ্রামে গ্রামে। আর ছেলে মেয়েদের এখানে নিয়ে এসেছি। কারণ তাদের এই গ্রাম বাংলার খাবারগুলো সম্পর্কে জানা ও বুঝাতে পারি।আজকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিক্রম আয়োজন দেখে আমি নিজেও আনন্দিত।
স্কুলছাত্রী কাকুলি জানায়, এই দিনটির জন্য আমরা সকলেই অপেক্ষা করি- কারণ পিঠা উৎসবটি আসবে কখন। আর আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি তৈরি করা শিখতে পারি।আবু সাঈদ জানান জানায়, এই দিনটিতে মেয়েরা হলুদ শাড়ি ও ছেলেরা হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে অনেক আনন্দ করে থাকি। এতে খুব মজা হয়,মূলত হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং সংস্কৃতির সাথে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দিতেই গত কয়েক বছর ধরে এই আয়োজন। আর ঐতিহ্য ধরে রাখার এই উৎসব আগামীতে আরো বড় পরিসরে করার কথা জানালেন আয়োজকরা।
প্রবিন মানুষ আব্দুল হান্নান(৯৫) বলেন, প্রত্যেক গ্রামে শিক্ষার্থীদের মতো আরো কেউ এগিয়ে আসুক গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতিগুলো নিয়ে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।পাটিসাপটা, ভাপাপিঠা, পুলি, মুইঠা, তেলপিঠা, ও তিলের পিঠাসহ নানা নামের ও স্বাদের এই পিঠা উৎসবে বাড়তি পাওনা হিসেবে ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। আর ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে জমজমাট একটি দিন কাটে পিঠাপ্রেমীদের।