২১, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার | | ৯ রমজান ১৪৪২

স্বর্ণপদক ও সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ভাষন

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৮

স্বর্ণপদক ও সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ভাষন
“আসসালামু আলাইকুম।
বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দবোধ করছি। গৌরবান্বিত বোধ করছি। সম্মানিত বোধ করছি। এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে আমাকে স্বর্ণপদক ও সম্মাননা প্রদাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। উপস্থিত সকলকে জানাই-আমার ঐকান্তিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে এ সম্মাননা অামাকে উৎসাহিত করবে। এ সম্মাননা সমাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা বাড়াবে। মানুষের প্রতি আমার কর্তব্যবোধকে শানিত করবে। মানুষের সেবায় আমাকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ফাকুরের ভাষায় বলতে হয়-‍ ”অতীতে, ভবিষ্যতে, দূর-দূরান্তে, হৃদয়ে হৃদয়ে মানুষ পরষ্পরে গাঁথা হয়ে আছে। ” শিক্ষাবিতআর ও সমাজসেবায় অামি যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছি-তা দেশের আপামর মানুষকে কালান্তরে গ্রথিত করে রাখবে। এর মাধ্যমে আমার হৃদয়ের বন্ধনকে দেশের মানুষের মধ্যে আরো সুদৃঢ় করবে।
সুধিমন্ডলী,
শিক্ষা সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। শিক্ষা উন্নয়নের মূলমন্ত্র। শিক্ষা মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধন করে। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম বলেছেন- “Education is its real sense is the pursuit of truth. It is endless journey through knowledge andenlightenment”
নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন- “Education is the most powerful weapon which you can use to change the world”
বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন- “সোনার দেশ গড়তে সোনার মানুষ চাই। শিক্ষতি জনগোষ্ঠী চাই। ”
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- “শিক্ষাই মানব সম্পদ উন্নয়নের চাবিকাঠি। ”
অামি বলে থাকি- মাথা ছাড়া দেহের কোন দাম নেই, শিক্ষা ছাড়া জাতির কোনো মূল্য নেই।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো- মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ অলংকার-এই উপলব্দি এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি আমার এলাকায় শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। আমার এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ৬টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এর মধ্যে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এমেধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়েছে। অসংখ্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। প্রায় ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছি যা পরবর্তীতে সরকারীকরণ হয়েছে। প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছি। আমার এলাকা বর্তমানে বাংলাদেশের ‘শিল্পঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
শ্রদ্ধেয় সুধিমন্ডলী,
আজ অামি এ অনুষ্ঠানে আমার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা কতিপয় প্রতিভাবান শিক্ষার্থী দেখতে পাচ্ছি। তারা আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। সরকারের উচ্চ পদে কর্মরত। কেউ জেলা প্রশাসক। কেউ পুলিশ সুপার। কেউ জেলা জজ। কেউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই- আপনারা আমার গর্ব। বাংলাদেশের গর্ব। আপনারা আমার গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর অহংকার। আপনারা-মানবসেবা ও দেশসেবায় আপনাদের কাজকে অারোকীর্তেমান করবেন, এটা আমি প্রত্যাশা করি।
সুধিমন্ডলী,
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাসের লেখা- “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অরজকতা, অশান্তি, মৌলবাদী ও অপশক্তির বিস্তার লক্ষণীয়। আমাদের বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। যথাযথ শিক্ষাই-এ অপশক্তির বিরুদ্ধে সহায়ক শক্তি। শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে অামরা অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে পারি। মৌলবাদকে রুখতে পারি। আমি মনে করি, যে সমাজে শিক্ষার চর্চা অাছে-সেখানে সন্ত্রাস নেই। অরাজকতা নেই। হিংসা নেই। বিদ্বেষ নেই। বিশৃঙ্খলা নেই। সেখানে ভালোবাসা আছে। ভ্রতৃত্ববোধ আছে। সহযোগিতা আছে। সহমর্মিতা আছে। আছে মানুষের জয়গান। মানুষের জয়গানের লক্ষ্যে অামি শিক্ষা প্রসারে এগিয়ে এসেছি। অামি আমার সম্পদ, শ্রম, মেধা, উদ্যোগ ও কর্ম প্রচেষ্টা শিক্ষা বিস্তারে নিয়োগ করেছি। সমাজ সেবায় নিয়োগ করেছি। সফলও হয়েছি।
সুধিমন্ডলী,
বিশিষ্ট সমজাবিজ্ঞানী- পল এইচ ল্যান্ডিস বলেছেন, “উন্নয়ন হঠাৎ ঘটে না। লক্ষ্য স্থির করে নিজেদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন দ্বারাই তা সম্ভব হয়। ” পল এইচ ল্যান্ডিসের এই উক্তি, এই চিন্তাশক্তিকে ধারণ করে যিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন, তিনি হলেন- আজকে প্রধান অতিথি, আমাদের অর্থনীতির দিকপাল-মাননীয় অর্থমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি আমাদের গুরুজন। আমাদের অহংকার। বাংলাদেশের অহংকার। তিনি তাঁর লক্ষ্য স্থির করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও পরিবর্তন সাধন করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তাঁর কর্ম ও চিন্তার মধ্য দিয়ে- আমাদের মধ্যে অভিভাবক হিসেবে, সর্বত বিরাজমান থাকবেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নের এই মহান ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটির হাত থেকে- আজ সম্মাননা নিতে পেরে আমি আনন্দিত। অামি গর্বিত। তাঁর প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।
পরিশেষে, আপনাদের সকলকে ঐকান্তিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
সবাইকে ধন্যবাদ