২৫, নভেম্বর, ২০২০, বুধবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

মিয়ানমারের অপপ্রচার, বাংলাদেশের প্রতিবাদ

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৯

মিয়ানমারের অপপ্রচার, বাংলাদেশের প্রতিবাদ

সামিউল্লাহ, কোতয়ালী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকেই দায়ী করে অপপ্রচার চালাচ্ছে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও গণধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের হোতা মিয়ানমার। এমন অপপ্রচারের প্রতিবাদও জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য শুধুমাত্র মিয়ানমারকেই দায়ী করেছে বাংলাদেশ।

রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিয়ে মনগড়া তথ্যের অব্যাহত সমাবেশ, তথ্যের অপব্যবহার, অসমর্থিত দাবি এবং অযৌক্তিক অভিযোগ করছে। বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানান্তরিত করতে মিয়ানমার সরকার রাখাইনে পরিবেশ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা এড়াতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ধারাবাহিক প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং জন্মভূমিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিতে মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারে একের পর এক শাসন ব্যবস্থা কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক বঞ্চনা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ফলে হয়েছিলো। বর্তমান সরকার কর্তৃক এই সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে।’

‘সুতরাং সমাধানটি পুরোপুরি সেখানেই রয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত করার জন্য মিয়ানমার ব্যতিত অন্য কারোর-ই দায়বদ্ধ হওয়া উচিত নয়। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করায় বাংলাদেশের কোন আগ্রহ নেই। রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করতে বাংলাদেশের আন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ভাগ্যক্রমে মিয়ানমার তার দায়বদ্ধতা পালনের জন্য কোনও রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রদর্শন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোকের ফিরে যাওয়ার দাবি করছে, যা যাচাই করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শকের মুখপাত্র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যর্থতার জন্য অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতসমূহে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিষোদগার করেছে মিয়ানমার।