৩, জুলাই, ২০২০, শুক্রবার | | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪১

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হলি আর্টিজান মামলার রায়

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০১৯

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হলি আর্টিজান মামলার রায়

সামিউল্লাহ,কোতয়ালী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো হলি আর্টিজানে হামলার মামলায় সাত আসামিকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্স, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি, জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২২ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হয়। আলোচিত এই ঘটনায় এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আট জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগ গঠন করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে শুরু হয় বিচারকাজ। আদালতে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, ক্রস-এক্সামিনেশন শেষে আজ ২৭ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য হয়। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির শিরোনাম: ২০১৬ সালের ক্যাফে হামলার ঘটনায় ইসলামি জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় বিচারাধীন ৮ জনের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হলেও বাংলাদেশের দাবি, স্থানীয় একটি জঙ্গি সংগঠন ওই হামলা চালিয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের শিরোনাম, বাংলাদেশ: ক্যাফে হামলার ঘটনায় ৭ ইসলামি জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবি (জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) নামের এক জঙ্গি সংগঠনের ৭ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা ২০১৬ সালে ঢাকার একটি ক্যাফেতে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলাটির পরিকল্পনা-অর্থায়ন ও বিস্ফোরক বানানোর অভিযোগ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীকে উদ্ধৃত করে আরেক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর দোষী সাব্যস্ত হওয়া আসামিরা আদালতেই ‘আল্লাহ আকবর’ বলে উঠে।

‘২০১৬ সালের ক্যাফে হামলার ঘটনায় ইসলামি জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড দিলো বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ আদালতে রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক মজিবুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা ‘আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে’ চেয়েছিল। তারা ‘জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে নৈরাজ্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে একটি জিহাদি রাষ্ট্র’ নির্মাণে সচেষ্ট ছিল। আদালত ফাঁসির মাধ্যমে ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বাংলাদেশের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষককে উদ্ধৃত করে এই রায়কে ‘একটি মাইলফলক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘এই রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইনগতভাবে তার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের জিরো টলারেন্স নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটালো।’

এর বাইরেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া, দ্য চায়না পোস্ট, স্ট্রেইট টাইমসসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।