২৫, নভেম্বর, ২০২০, বুধবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

নতুন ভাবনায় নিজেকে তৈরি করো

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

নতুন ভাবনায় নিজেকে তৈরি করো

ধরো তুমি ভাইভা বোর্ডে বসে আছো। খুব নার্ভাস তুমি। সবাই যখন প্রশ্ন করা শুরু করলো তুমি অতিরিক্ত নার্ভাস হওয়ার কারণে দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো শুরু করলে। একবার ভেবে দেখো তো কী হাস্যকরই না হবে এই দৃশটি তাদের জন্য যারা সেখানে বসে আছে। হয়ত এটার উপরই ভিত্তি করে তোমাকে মূল্যায়ন করা হতে পারে।মানুষ অভ্যাসের দাস। ভালো অভ্যাস যেমন আমাদের অনেক দূরে যেতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি খারাপ অভ্যাস আমাদের জীবনের পথে বাঁধা হয়ে থাকে। এটি আমাদের জীবনে ঝুঁকি বয়ে নিয়ে আসে, এটি আমাদের সময় ও শ্রম দুটোকেই অপচয় করে। প্রশ্ন হলো তাহলে আমরা কেন তা করে যাই? এবং তা থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে কী করা যেতে পারে?
প্রথমেই বলতে চাই কোন কারণে এই খারাপ অভ্যাসের এর তৈরি হয়। এটি তৈরি হয় একঘেয়েমি জীবন, মানসিক চাপ কিংবা অবসন্নতা থেকে। এসব খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সবসময় যে একই পথ অবলম্বন করতে হবে তা নয়।
অনেক ভালো অভ্যাস এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে। নিজের খারাপ অভ্যাসকে স্বীকার করাই হচ্ছে তা থেকে বের হয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপ। অনেকেরই সেই সৎ সাহস থাকে না তা স্বীকার করার কিংবা তা থেকে বের হয়ে আসার।কেউ যদি তা থেকে বের হয়ে আসতে চায় তবে তার জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পনা।আজকে দেখব কয়েকটি টিপস যার সাহায্যে সহজেই দূর করতে পারো তোমার খারাপ অভ্যাসগুলোকে।কেউ যদি তা থেকে বের হয়ে আসতে চায় তবে তার জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পনা।আজকে দেখব কয়েকটি টিপস যার সাহায্যে সহজেই দূর করতে পারো তোমার খারাপ ১। খারাপ অভ্যাসকে ভালো অভ্যাসে পরিণত করো:
অভ্যাস খারাপ কিংবা ভালোর পেছনে কোন একটা কারণ থাকে। এটি শারীরিকও হতে পারে যেমন – ধূমপান করা; তেমনি মানসিকও হতে পারে কিংবা তা শুধুমাত্র মানসিক চাপ কমানোর উপায়ও হতে পারে যেমন – দাঁত দিয়ে নখ কাটা, আঙ্গুল ফোটানো ইত্যাদি। এটি এখন হাস্যকর মনে হলেও ঐযে প্রথমের ঐ পরিস্থিতিতে পড়লে হয়ত উপলব্ধি করতে পারবে। কিন্তু তখন হয়ত অনেক দেরি হয়ে যাবে।
সব অভ্যাসের পেছনে যে কারণই থাকুক তা দূর করা সম্ভব নয় কিন্তু সেই খারাপ অভ্যাসকে কোন একটি ভালো অভ্যাসে পরিণত করা যেতেই পারে। তুমি মানসিক চাপ দূর করার জন্য ধূমপান না করে অন্য কোন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে পারো। সেই অভ্যাস দ্বারা তোমার সেই চাহিদাও পূরণ হয়ে যাবে।
২। অভ্যাসের পারিপার্শ্বিক দিকগুলো বিস্তারিত লিখো:
যখন তুমি সেই কাজটি করছো কিংবা তা করার ইচ্ছা হয় তখন একটি ডায়েরিতে লিখে ফেলো কেন তোমাকে সেই কাজটি করতে হচ্ছে এবং তা করার পর তোমার কেমন অনুভব হয়। সেই সঙ্গে লিখে রাখতে পারো তুমি সেই কাজটি কখন সবচেয়ে বেশি করো, যখন চিন্তিত থাকো নাকি ভীত? কোন নির্দিষ্ট সময় রয়েছে? এসব কিছু লিখে রাখলে তুমি একটু হলেও তোমার ব্যবহারের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাবে।৩। প্রণোদনা দেয় এমন কাজকে বর্জন করো:যেসব জিনিস, মানুষ কিংবা যায়গা তোমাকে সেসব কাজ করতে প্রণোদনা যোগায় তা বর্জন করো। মনে রেখো তোমার পরিবেশই তোমার খারাপ অভ্যাসগুলোকে আরও প্রশ্রয় দেয় এবং ভালো অভ্যাসের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। পরিবেশ তোমার ব্যাবহারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। ভালো ফলাফল চাইলে পরিবেশেরই পরিবর্তন করে ফেলো।
ধরো তোমার অভ্যাস কিছুক্ষণ পর পরই ফেসবুকে ঢুঁ মেরে আসা তার কারণ তোমার রুমে ইন্টারনেট কানেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। অবশ্যই তার খুব দরকার। এই অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে তুমি ইন্টারনেটের কাজ শেষ হয়ে গেলে তা বন্ধ রাখতে পারো।
ফোনের নোটিফিকেশানও বন্ধ করে রাখতে পারো। যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী তোমাদের পরিবেশ পরিবর্তন করে ফেললে দেখবে খারাপ অভ্যাস দূর করা অনেকখানি সহজ হয়ে যাবে।৪। নিজেকে ব্যস্ত রাখো:যখন তোমার সেই কাজের ইচ্ছে তৈরি হবে তখন অন্য কোন কাজে মনোনিবেশ করো। ধরো তোমার খুব ইচ্ছে করছে ফেসবুকে ঢুঁ মেরে আসার কিন্তু তুমি তা না করে কোন বন্ধুর সাথে কথা বলা শুরু করে দাও কিংবা আশেপাশে যারা আছে ওদের সাথেই কথা বলো না! দেখবে, ফেসবুকের ফানি ভিডিওর থেকে এই সামান্য কথোপকথনে অনেক কিছু শেখার আছে।
ভালো কোন অভ্যাস তৈরি করে ফেলতে পারো যেমন – বই পড়া, লেখালেখি করা ইত্যাদি। অনেক সময় ভালো অভ্যাসগুলো খারাপ অভ্যাসগুলোকে প্রতিস্থাপন করে ফেলতে পারে। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং সময়কে কাজে লাগাতে পারো, উপরিক্ত বাক্য গুলে লেকচার স্বরুপ যে গুলো আমার জীবনে তোমার জীবনে সবার জীবনে দরকার, তাই আজ থেকে আমরা জীবনটাকে পাল্টাই তাহলে আগামীর  পৃথিবীটা সুন্দর হবে।