৩, মার্চ, ২০২১, বুধবার | | ১৯ রজব ১৪৪২

টাঙ্গাইলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে শাহিনা খানমের

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে শাহিনা খানমের

কালিহাতী প্রতিনিধি: :টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়ার শাহিনা খানমের দিন কাটছে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। শাহিনার খানম (৩৭) জাঙ্গালিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আতোয়ার রহমান সোনা খান এর জৈষ্ঠা কন্যার পারিবারিব ভাবে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখে বিয়ে হয় একই উপজেলার দুল্যা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আজিজুর রহমান মালেক এর সাথে। বিবাহের পর দাম্পত্য পালন কালে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান হয়। ঘর সংসার চলাকালীন অবস্থায় মালেক আমার নিকট যৌতুক দাবি করিত এবং যৌতুকের কারণে প্রায়ই শারিরীক, মানসিক নির্যাতন করিত। শাহিনা সন্তানের কথা ভাবিয়া সকল অত্যাচার সহ্য করিয়া ঘর সংসার করতেছিল। সংসারিক অভাব অনটন থাকার পরও আমার পিতা ও অন্যান্য জায়গা হইতে ঋণ কর্জ করিয়া অতিব কষ্টে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ টাকা) দিয়ে ২০১৭সালের মার্চ মাসে সৌদি আরব পাঠাই। আমার স্বামী সৌদি আবর গিয়ে পাল্টে যায়। বাড়িতে ঠিকমত টাকা পাঠায় না। মাস তিনের মধ্যেই ইমো এবং ফেসবুক একাউন্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়েদের সহিত প্রেম করিতে থাকে। আমি ফোনের মাধ্যমে তাহার প্রেমের বিষয়গুলো এবং আমার সংসারে কেন টাকা দিচ্ছে না জিজ্ঞেস করিলে সাফ সাফ আমাকে বলিয়া দেয় যে, আমি তোকে নিয়ে আর ঘর করিব না তোকে আমি তিন তালাক দিলাম। আজ হইতে তুই আমার বউ না এবং আরো বলেন আমি একটা মেয়ের সহিত প্রেম করিয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলিয়া বিবাহ করিয়াছি। তুই যা পারছ করগা। সেই মেয়েকে বাস্তবে পাওয়ার লক্ষে ৬ মাস বিদেশ থাকিয়া আমার সংসারে কথা চিন্তা না করিয়া বাংলাদেশে চলিয়া আসে। ঐই মেয়ের সম্পর্ক বজায় রাখে । আমি বিভিন্ন সূত্রে খোজ খবর করিয়া দেখি ঘটনা সত্য। আমার স্বামীকে এ প্রসঙ্গে সামনা সামনি জিজ্ঞেস করিলে আমাকে বলে তুই যদি আমার ঘর সংসারে থাকিস তবে তুই তোর বাপের বাড়ি হইতে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ টাকা) আনিয়া দিবি। নইলে তুই আমার সংসারে থাকিতে পারিব না। আমার স্বামী আমাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করিলে এক পর্যায়ে আমি ২০১৮ সালের সেপ্টম্বর মাসের ৫ তারিখে মনকষ্টে তালাক প্রদান করি। তালাক প্রাপ্ত স্বামী মালেক যে মেয়ের সহিত স্বামী- স্ত্রী হিসেবে থাকিত সেই মেয়ে মালেকের আর্থিক দৈন্যতার কারণে ছেড়ে দিলে মালেক পূনরায় আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য পাগল হয়ে যায়। মালেক আমাকে পুনরায় ঘর সংসারের প্রস্তাব দিলে আমি তাকে আর ভরসা করিতে পারিব না বলে সাফ মানা করে দিই। তালাক প্রাপ্ত স্বামী মালেক সেই রাগে আমাকে প্রায় ১ বছর পর আমার ও আমার পরিবারে নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরের ৭ তারিখে দেলদুয়ার থানায় মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করি। আমার তালাক প্রাপ্ত স্বামী আমাকে হুমকি দিচ্ছে যে কারণে সন্তানসহ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। বিভিন্নভাবে আমার কাছে আসার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ০৭ তারিখে চুপ করিয়া আমার নারান্দিয়া আত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করি। সেখানেই এসে আমাকে যাপটে ধরে এবং মেরে ফেলার হুকমি দেয়। ছেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ কাছে বিচার প্রার্থনা করলে তিনি স্থানীয় কালিহাতী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক কমান্ডার মিজানুর রহমান মজনু ও নারান্দিয়া ইউপি সদস্য শামসুল আলম সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে আমার তালাক প্রাপ্ত স্বামীকে ধরিয়ে দিই। তাদের কাছে অঙ্গীকার নামা দেওয়ার পরও আমার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে মালেকের সাথে ফোনে যোগযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।