১৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ৩০ মুহররম ১৪৪২

জামালপুরে চোখে নতুন বই উত্তোলন করলেন ১২৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি শিক্ষকরা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

জামালপুরে চোখে নতুন বই উত্তোলন করলেন ১২৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি শিক্ষকরা


জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে নতুন বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমমানের বই তুলেছেন স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। বেতনসহ সরকারি সুবিধা বৈষম্যের শিকার শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতোই পাঠদানসহ সমান শ্রম দিয়ে আসছেন স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকগণ।

জামালপুর জেলা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছামিউল হক জানান, জামালপুরে ৭টি উপজেলায় ১২৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এগুলোতে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা ৬৪৫ জন। এরমধ্যে ৫০টি মাদরাসার ২৫০ জন শিক্ষক প্রতিমাসে জনপ্রতি সম্মানী ভাতা পান মাত্র দুই হাজার ৩০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। বাকি ৭৯টি মাদরাসার ৩৯৫ জন শিক্ষক বিনা বেতনেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করছেন।

ইসলামপুরের দেওয়ানপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সর্বনি¤œ বেতন পান ২০ হাজার টাকা। সেখানে জাতীয়করণ না হওয়ায় সরকারের পাঠ অনুমোদনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা নামেমাত্র সম্মানী ভাতায় পাঠদান করছেন। আর অধিকাংশ শিক্ষকই বিনা বেতনে শ্রম দিচ্ছেন। অথচ শিক্ষকদের শ্রম দিতে হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতোই।

জানা গেছে, ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি গুদাম থেকে সোমবার স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার জন্য শিশু শিক্ষার্থীদের নতুন বই প্রদান করা হয়। বই উত্তোলনের সময় চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন শিক্ষক আব্দুস সাত্তার মৌলভী, আলী আকবর, আব্দুল মোতালেব, ছামিউল হক, জিল্লুর রহমান ও খাইরুল ইসলাম অনেকেই।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তারা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উচ্চ বেতনভাতা পেয়ে সৌখিন জীবন-যাপন করেন। স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা শিক্ষকতার শুরু থেকেই বেতন বৈষম্যসহ সব সুবিধা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর শুধুমাত্র পরীক্ষা নিয়ে থাকি। এর বাইরে কিছু করার নেই।