২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত হামলায় আহত দুই

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত হামলায় আহত দুই

কালিহাতী (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠেছে। এতে ৪৫ শতাংশ ভূমিতে রোপন করা পাঁচ হাজার ফুলকপি বিনষ্ট হয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে বাধা দেয়ায় হামলায় আহত হয়েছে নুরুল ইসলাম ও আলো বেগম। আহতদের কালিহাতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কালিহাতী থানা পুলিশ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিলে জমি দখলের চেষ্টাকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

জানাগেছে, কালিহাতী উপজেলার দক্ষিণ চামুরিয়া গ্রামের মৃত আলীচান প্রামানিকের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রামানিকের সাথে প্রতিবেশি চাচাত ভাই তোতা প্রামানিকের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু প্রামানিকদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

ওই বিরোধের জের ধরে নুরুল ইসলাম প্রামানিকের রোপন করা পাঁচ শতাধিক ফুলকপি চারায় প্রতিপক্ষরা সম্প্রতি ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করে। বিষের প্রভাবে ৪৫ শতাংশ ভূমির প্রায় সবগুলো ফুলকপির চারা মরে গেছে।

এতে নুরুল ইসলাম প্রামানিক প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, শীতকালীন সবজি ফুলকপি রোপন করা জমিটি দীর্ঘদিন যাবত নুরুল ইসলামরা ভোগদখল করছে। এবারও ফুলকপি রোপন করেছিল।

সম্প্রতি রাতের আঁধারে কে বা কারা ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করায় চারাগুলো পঁচে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বুধবার সকালে তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টোর নেতৃত্বে দলবল নিয়ে ওই জমি দখল নিতে লাঠিসোটা নিয়ে বেড়াতে যায়। এইসময় জমির মালিক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাধা দিতে গেলে তাদের লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতারি পিটিয়ে আহত করে। আহত মধ্যে নুরুল ইসলাম ও আলো বেগম গুরুতর আহত হয়।

আহত নুরুল ইসলাম জানান, তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু প্রামানিক, জাহাঙ্গীর প্রামানিক, আনোয়ার হোসেন হাসু, আবুল কালাম, আফাজ উদ্দিন, হৃদয় মঞ্জুর,আব্দুর রহিম জমি দখল নিতে আমাদের উপর হামলা চালায়। বিগত ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে তার ওই একই ক্ষেতে রোপন করা শশা প্রতিপক্ষের লোকজন কেটে-ছিঁড়ে বিনষ্ট করে।

এ বিষয়ে মামলা (কালিহাতী থানার মামলা নং-৩০, তাং-২৯/৪/২০১৬ইং) দায়ের করলে কালিহাতী থানা পুলিশ তদন্ত করে একই বছরের ২৪ মে প্রতিপক্ষের ৬ জনের নামে চার্জশীট দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারিক আদালতে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরো জানান, তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের(৫ বছর) জনক, পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষের ভাতিজারা সাত ভাই হওয়ার কারণে জবরদস্তি তার জমি ভোগ করতে চায়। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে কিন্তু তারা জমির কোন কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারে নাই।

প্রতিপক্ষের জানান, ওই জমিটি তারা পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন। এ বিষয়ে আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা চলছে। নুরুল ইসলামরা জোর করে বিরোধীয় জমিতে ফুলকপি চাষ করেছে। তবে তারা কেউ ফুলকপির চারায় বিষ বা ক্ষতিকারক অন্যকিছু প্রয়োগ করেন নি।
সহদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বালা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন।

এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোন সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক বিষ দেয়ার বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন।