১৩, জুলাই, ২০২০, সোমবার | | ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

তীব্র শীতে জবুথবু সারাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯

তীব্র শীতে জবুথবু সারাদেশ

সামিউল্লাহ, কোতোয়ালী (ঢাকা) 

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের অনেক জায়গায় দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে। বৈরী এ আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টি হলেও দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা এখন বেশি। মেঘ আর কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা কমেনি। তবে বাতাস থাকায় শীত আগের মতো অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও নেমে যাবে। যেসব এলাকায় এখন শৈত্যপ্রবাহ আছে সেসব জায়গায় এটি বিস্তার লাভ করতে পারে। 

তিনি বলেন, শনিবার বৃষ্টি হতে পারে। এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যশোরে সর্বোচ্চ ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগের প্রায় সব জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় ৫, টাঙ্গাইলে ৫, ফরিদপুরে ৯, মাদারীপুরে ৪, গোপালগঞ্জে ৯, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সীতাকুন্ডে ১০, কুমিলস্নায় ৮ ও চাঁদপুরে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য জেলাগুলোতেও বৃষ্টি হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩, খুলনা ও মোংলায় ৮, পটুয়াখালীতে ৮ ও বরিশালে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি হলেও শুক্রবার তাপমাত্রা খুব একটা কমেনি। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ২। এদিকে ঢাকায় ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ২। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে তাপমাত্রা একই ছিল, (১৩ দশমিক ৫), সিলেটে ১৩ দশমিক ২, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৮, রংপুরে ১১ দশমিক ৫, খুলনায় কমে ১২ দশমিক ৮, বৃহস্পতিবার ছিল ১৪ এবং বরিশালে ১৩ দশমিক ২। 

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলেও শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেলা যতই বেড়েছে শীতের তীব্রতা ততই বেড়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়েন জেলার খেটে খাওয়া মানুষ। বেলা ১১টায় হালকা কুয়াশার সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না ঠান্ডা। এদিকে ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি বেড়েছে। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী রিপন জানান, শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা : দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আর হিমেল হাওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে। গত কয়েক দিন আগে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মেঘলা আকাশের সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের হাত থেকে রেহায় পেতে মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ উষ্ণতা পেতে সরকারি অফিসে ধরনা দিচ্ছে কম্বলের আশায়। সেই সঙ্গে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ পুরানো কাপড়ের দোকানে ভিড় করছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং মাঝে মাঝে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও হিমেল হাওয়ায় শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টি ও ঠান্ডায় কর্মজীবী থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশের মতো জীবননগরের উপর দিয়েও বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়ঃবৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।