৩, জুন, ২০২০, বুধবার | | ১১ শাওয়াল ১৪৪১

কলাপাড়াসহ উপকুলে রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে ব্যাপক আস্তানা গাঁড়ছে

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২০

কলাপাড়াসহ উপকুলে রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে ব্যাপক আস্তানা গাঁড়ছে

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়াসহ দক্ষিন উপকুেলর মৎস্যবন্দর মহিপুর-আলীপুরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ক্রমশই শক্ত হচ্ছে, বেড়ে চলছে তাদের আনাগোনা। এসব রোহিঙ্গারা কৌশলে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা মৎস্যব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ৭২টি রোহিঙ্গা পরিবার শানাক্ত করা হলেও এর সংখ্যা ৫ শতাধিক বলে ধারনা করা হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসা ও নানা অনৈতিক অপরাধের সংগে যুক্ত হচ্ছে। পুরুষ রোহিংগারা জেলে পেশায় যুক্ত থাকলেও নতুন নতুন অপরাধিদের সাথে যোগসূত্র রয়েছে বলে জনশ্রæতি নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

সূত্রমতে জানা যায়, মায়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে কক্সবাজারে পাচার হওয়া ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী ও মাদকচক্রকে হাত করে এসব রোহিঙ্গারা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে ট্রলারযোগে নৌরুটে কলাপাড়াসহ উপকুলের বিভিন্ন স্থানে আস্তানা গাঁড়ছে। বিভিন্ন নদীপথে মাদকের সবচেয়ে নিরাপদ রুট হিসেবে এরা বেছে নিয়েছে। পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে বিভিন্ন সময় মাদকের চালান । ২০১৭ সালে মহিপুর থানা পুলিশ মৎস্য বন্দর আলীপুর থেকে ৩৯৫০ পিস ইয়াবাসহ ফাতেমা নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে। পুরুষ রোহিঙ্গারা জেলে পরিচয়ে ট্রলারে মাছ শিকারের পাশাপাশি গভীর সাগরে জলদস্যুদের সঙ্গে জেলে অপহরণ বাণিজ্যের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে বলে জেলেরা জানায়। চিহ্নিত কিছু স্থানীয়মহল অপেক্ষাকৃত কম মজুরিতে জেলে হিসেবে খাটানো যায়, মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহৃত করতে এরা নিরাপদ বলেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। এদের অবস্থান ধীরে ধীরে আরও বাড়ছে বলে স্থানীয় জেলেরা জানায়। সরকারিভাবে কলাপাড়ার আলীপুরে এবং মহিপুরে ৭২ টি রোহিঙ্গা পরিবার শণাক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে আসা রোহিঙ্গা মাকাছি মাঝি এখন কাসেম মাঝি নামে আলীপুরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এখনও তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি ছোট্ট ঘরে এক হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকছেন। তার স্ত্রী ষাটোর্ধ রোজিনা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী এক ট্রলার মালিকের ভাড়া ঘরে থাকেন এবং প্রশাসনিক সকল ঝামেলা তিনি সামলে নেন তাই অন্য কোন বাড়িতে যাচ্ছেন না তারা। প্রায় দশ বছর আগে আলীপুরে এসে বসবাস করছে রোহিঙ্গা সৈয়দ (৪০) জানায়, তারা এখানে স্বইচ্ছায় আসেননি তাদেরকে আনা হয়েছে। আলীপুরের এক প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক তাদের কক্সবাজর থেকে এখানে এনেছেন। সৈয়দ আরও জানায়, তারা এক যুগ আগে মায়ানমার থেকে নাফনদী পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে আশ্রায় নেয়। সেখান থেকে ওই ট্রলার মালিকের লোক গিয়ে তাদের পরিবারসহ আলীপুরে নিয়ে এসেছেন। তার মতো অনেকেই এখন আলীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। সৈয়দ বর্তমানে ওই ট্রলার মালিকের ভাড়া বাসায় থাকেন। এখানে রোহিঙ্গাদের একটি অলিখিত সমিতিও রয়েছে। যার নেতা হিসাবে রয়েছে শামসু রোহিঙ্গা যাকে সবাইই চেনে।

২০১৭ সালের ১৭ জুলাই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ নির্বাচন ভবনে তার কার্যালয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে সমন্বয় কমিটির একটি সভা করেন। ওই সভায় ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে বিশেষ এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকায় ভোটার হতে নাগরিদের অধিকতর তথ্য দাখিল করার নির্দেশ দেয়। এসব এলাকায় কেউ ভোটার হতে চাইলে বাবা-মার এনআইডি, ফুফু-চাচার এনআইডি, প্রয়োজনে অন্য আত্মীয়ের এনআইডির প্রমাণ হিসেবে দিতে হবে। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ রোহিঙ্গা এনআইডি কার্ড আগেই পেয়েছেন। হয়েছেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত। ফলে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নতুন রোহিঙ্গাদের অর্ন্তভূক্ত ঠেকানো যায়নি। এছাড়া ২০টি উপজেলায় রোহিঙ্গা উপস্থিতি ধরে নিয়ে ২০টি কমিটি কাজ করলেও তখন উপজেলার সংখ্যা আরও দশটি বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোহিঙ্গা উপস্থিতির ৩০টি উপজেলার মধ্যে কলাপাড়া ছিল না। ফলে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। কলাপাড়ায় উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এনিয়ে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিসহ সদস্যরা আলোচনা করেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. মুনিবুর রহমান জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ এবং যেন বসতি স্থাপন করতে না পারে এ জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যা বাস্তবায়নে তিনি সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছেন।