৯, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

মৌলভীবাজার টু সমশেরনগর সড়কের কাজের পরিদর্শনে সাংসদ সৈয়দা জহোরা আলাউদ্দিন

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২০

মৌলভীবাজার টু সমশেরনগর সড়কের কাজের পরিদর্শনে সাংসদ সৈয়দা জহোরা আলাউদ্দিন

মোঃ জাকির হোসেনঃ জেলা প্রতি নিধি।  মৌলভীবাজার:
৪২ কোটি ৮০লক্ষ ৮৫ টাকা ব্যয়ে র্নিমাণাধীন মৌলভীবাজার-সমশেরনগর সড়কের নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এমন খবর জানতে পেরে মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ সংরক্কিত আসনের সাংসদ সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন সরেজমীনে গিয়ে তার সত্যতা পেয়ে  তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, 

বুধবার (৮জানুয়ারি) দুপুর ১২ ঘটিকার সময়   কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের সমশেরনগর সড়কে মৌলভীবাজারে কর্মরত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এমন ক্ষোভ জানান সাংসদ জোহরা আলাউদ্দিন এমপি।  সাংসদ সৈয়দা জহোরা আলাউদ্দিন সরেজমিনে রাস্তার কাজ পরিদর্শনে গিয়েছেন এমন খবর  ঐ এলাকার বাসিন্দারা জানতে পেরে সাথে সাথে এলাকাবাসী   দ্রুত সরেজমিনে ছুটে আসেন এবং এমপিকে কাছে পেয়ে জানান, রাস্তায় পুরাতন পাথরের সাথে নতুন পাথর আর বালি মিশ্রিত করে সেখানে  ফেলা হচ্ছে ঠিক মতো পানিও দেয়া হচ্ছেনা বলে অত্র এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করিলে 
সংসদ সদস্য সৈয়দা জহোরা আলাউদ্দিন নিজ হাতে কোঁদাল নিয়ে রাস্তা খুড়ে   দেখতে পান সেখানে পুরাতন পাথর ফেলা হচ্ছে, সেখানে নতুন কোন পাথরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমন সময় 

খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মুহিন রানা। রাস্তা পরিদর্শনকালে সহকারি প্রকৌশলী মুহিন রানার কাছে রাস্তায় নিম্নমানের কাজের বিষয়ে নিজের ক্ষোভ আর অসন্তোষের কথা প্রকাশ করে  তিনি জানতে চান এবিষয়ে আলোচনা করতে আমি  একাধিকবার ফোন করেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাইনি কেন? একজন সংসদ সদস্য’র চেয়েও কি তিনি কি বড় হয়ে গেছেন?   এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ প্রকৌশলী জানান তিনি সবসময় মিটিংয়ে ব্যস্থ থাকায় যোগাযোগ করতে পারছেন না। এসময় তিনি বলেন একজন নির্বাহীপ্রকৌশলি  চলেন একটি জেলা নিয়ে আর আমি একজন সংসদ সদস্য  আমি চলি দুটি সংসদীয় আসন নিয়ে এর পরেও আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করি জনগনের সাথে যোগাযোগ রেখে তাদের সেবা করে যেতে।  এসময় সংসদ সদস্য জোহরা আলাউদ্দিন এমপি জানান এবিষয়ে তিনি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানাবেন। রাস্তা নির্মাণের কাজে নিম্নমান আর কোন প্রকার অনিয়ম দূর্নীতি সহ্য করা হবেনা বলেও হুঁশিয়ারী করেন। 

এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি কখনো সংসদ অধিবেশন আবার কখনো মিটিং নিয়ে, সব সময় বেস্ত থাকি কাজেই এখন থেকে আপনারা এই রাস্তার কাজের বিষয়ে সবসময় খোঁজ খবর নিবেন, কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নিতির আবাস  পেলে আপনারা সাথে সাথে গণমাধ্যমে তা তুলে ধরবেন। তিনি আরো বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এই উন্নয়ন হচ্ছে কাজেই সেক্ষেত্রে কোন অনিয়ম ও দুর্নিতি বর্দাস্ত করা হবেনা।

জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালের শেষ দিকে একনেক এর বৈঠকে চুড়ান্ত অনুমোদন পেলেও শেষ পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়নি। অবশেষে ২০১৯ সালে সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের সীমাহীন ভোগান্তি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সোস্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ জানান অনেকেই।

সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবর সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি কর্তৃক নোটিশ প্রদানের পর জেলা মহাসড়ক সমূহ যথাযথ মান প্রশস্ত্রতায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যায়ে মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলা চেকপোষ্ট (জেড-২০০২) মহাসড়কটি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ৪২ কোটি ৮০লক্ষ টাকা ব্যায়ে দরপত্র সম্পন্ন শেষ হলে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় দফা দরপত্রের মাধ্যমে শেষ হবে সড়কটির অবশিষ্ট অংশের সংস্কার কাজ।

২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি , কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড়বড় গর্তসহ মারাত্তক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পিএমপি মাইনর (জরুরী মেরামত) এর মাধ্যমে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করে সড়কটি কোনরকম সচল রাখা হলেও জন দুর্ভোগ চুড়ান্ত আকার ধারণ করে।এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকার সম্পাদক বকসি ইকবাল আহমদ এটিএন বাংলা প্রতিনিধি সৈয়দ মহসীন পারভেজ, বিটিভি প্রতিনিধি হাসনাত কামাল, দিপ্ত নিউজ সম্পাদক দুরুদ আহমদ, ৭১ বাংলা প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ূম, নবচেতনা জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন,  সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, সাংবাদিক ওমর ফারুক নায়িম, তাকবির হোসাইন, সাংবাদিক আবদুল কালাম,    তাজুল ইসলাম প্রমুখ।