২৬, জানুয়ারী, ২০২১, মঙ্গলবার | | ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

তালতলীতে মাদ্রাসার মাঠ দখল করে ঠিকাদারের ইট -বালুর ব্যবসা;বিপাকে দাখিল পরীক্ষার্থীরা!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০

তালতলীতে মাদ্রাসার মাঠ দখল করে ঠিকাদারের  ইট -বালুর ব্যবসা;বিপাকে দাখিল পরীক্ষার্থীরা!

মো.মিজানুর রহমান নাদিম,বরগুনা প্রতিনিধি :বরগুনার তালতলী ছালেহিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মাঠ দখল করে ঠিকাদারের জমজমাট ইট-বালুর ব্যবসা বিপাকে পড়ছে চলমান দাখিল পরীক্ষার্থীরা।দীর্ঘদিন যাবত এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ব্যবসা করে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার বাদশা।মাদ্রাসার মাঠে ইট-বালু রাখার করনে খেলাধুলা করতে পারে না ওই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের তালতলীতে ছালেহিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় চলছে দাখিল পরীক্ষা। এই পরীক্ষা কেন্দ্রে উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার ৪১৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু মাদরাসার মাঠ দখল করে সড়কের কাজের জন্য নির্মাণ সামগ্রী ইট-বালু রেখে ব্যক্তিগত ব্যবসা চালাচ্ছেন বাদশা নামের এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। মাদরাসা মাঠজুরে রাখা ইট, পাথর, বালিসহ নির্মাণ সামগ্রীর ধুলাবালি বাতাসে উড়ছে। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। অনেকে নাক-মুখে হাত দিয়ে চলাফেরা করছেন। আবার অনেকে মুখে মার্কস ব্যবহার করে কেন্দ্রে আসছেন। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ হারুন অর রশিদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার বাদশা। এরপর থেকে এক দিনের জন্যও এই মাদরাসায় স্বাভাবিক পাঠদান হয়নি। মাঠে স্তুপ করে রাখা এসব ইট, পাথর, বালুসহ নির্মাণ সামগ্রীর জন্য শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি এ অভিযোগ আমলে নেয়নি।

একাধিক পরীক্ষার্থীরা জানান, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রলি গাড়ীর শব্দে কিছু শোনা যায় না। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বে পরিবহনের কাজ বন্ধ করা হয়। ধুলাবালিতে পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিক একাকার হয়ে যায়। এ কারনে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরাও করা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রের মাঠ সম্পূর্ন দখল করে তার ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যক্ষকে এ সমস্যার কথা জানালেও তিনি এতে কোন কর্ণপাত করেননি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার বাদশার  মুঠোফোনে জানতে চাইলে ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকের পরিচয় শুনে তিনি লাইনটি কেটে দেন এবং বার বার চেষ্টা করে ও তাকে পাওয়া যায় নি।

এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, বিষয়টির জন্য আমি দুঃখিত। ঠিকাদার বাদশাকে গত বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মাদরাসার মাঠে রাখা তার বালু ও পাথরগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি তা নেয়নি। এ কারনে কেন্দ্রে আসা পরীক্ষার্থীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সেলিম মিয়া মুঠোফোনে বলেন, এই বালু ও পাথরের জন্য আমি দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিন (সোমবার) কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারিনি। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেব।