১৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ৩০ মুহররম ১৪৪২

পঞ্চগড়ে জাতীয় পার্টির এমপির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২০

পঞ্চগড়ে জাতীয় পার্টির এমপির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা অব. মেজর  রানা মোহাম্মদ সোহেলের (মেজর রানা) বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। একইসাথে তার প্রশ্রয়ে থাকা সংঘবদ্ধ একটি চক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানিও করছেন। শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মাহাবুবার রহমান দুলুর স্ত্রী মমতাজ দৌলতানা, ভাই ময়নুর রহমান প্রধান তরু, মাহশিকুর রহমান টুকু, মসলেহার রহমান ফুলু, ভাতিজা মোজাফর রহমানে পক্ষে মখলেছুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা সংসদ সদস্য সোহেল রানাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  
মহামারী করোনা ভাইরাসে দিশেহারা মানুষ। ঠিক সেই সময়ে একজন সংসদ সদস্য ভূমি দখলসহ আইন গর্হিত কাজে লিপ্ত তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানি করে আমাদের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক জিডি ও ফৌজদারি মামলা এবয়ং প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করেছি। ভূমিদস্যু সংসদ সদস্যসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৬০ সালের ২০ জুলাই পাঁজজন অংশিদারের সমন্বয়ে গয়েশপুর এগ্রিকালচারাল ফার্ম কোম্পানী লিমিটেড নামে এই ফার্মটি চালু করা হয়। ম্যানেজিং পার্টনার ছিলেন মশিউর রহমান। ১৯৬২ সালে ফার্মটি ৮টি খতিয়ানে এসএ রেকর্ড হয়। সেই থেকে খাজনা প্রদান করে ভোগ দখল করে আসছে কিন্তু ২০১০ সালে একই এলাকার লোকমান হোসেন গং জাল কাগজপত্র তৈরি করে গয়েশপুর এগ্রিকালচারাল ফার্মের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ৩৪/১০ অন্য মামলা দায়ের করেন। বাদীর তদবিরের অভাবে মামলাটি ৩ দফায় খারিজ হয়ে যায়। দুদফা খারিজের পর বাদিপক্ষ আদালতে নতুন করে ফ্রেস আরজি দাখিল করেন। আরজিতে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দাখিল করায় সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর বাদি পক্ষের বিপক্ষে মামলাটি এবেটসহ নিষ্পত্তি করেন আদালত। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ মামলাটি চালু করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলাটি জেলা যুগ্ন জজ আদালতে চালু করে ৬০ দিনের মধ্যে নিস্পত্তি করার নির্দেশ দেন। মামলার কাগজপত্র সঠিক না থাকায় পরাজয়ের ভয়ে পুন:দাখিল সাপেক্ষে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন। 

মামলাটি চলমান অবস্থায় সুবিধা করতে না পেরে লোকমান হোসেন গং ভুল দাখিলা, ভুল ওয়ারিশান ও ভুল খতিয়ান উপস্থাপন করে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ১০ একর ২৫ ডিসিমল জমি সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পঞ্চগড় জেম জুট লিমিটেডের কর্মকর্তা ও বর্তমানে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল ( মেজর রানা) কাছে বিক্রয় করেন। 

১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে বাদীপক্ষের দাবীকৃত সম্পদে অংশিদারিত্ব না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর জমি রেজিস্ট্রি না করার জন্য টুনিরহাট সাব রেজিস্টারকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালত মামলা চলমান অবস্থায় জমি বিক্রি, হস্তান্তর আইন পরিপন্থী হওয়ায় বাদীপক্ষ ও ক্রেতাকে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করেন। জমির ক্রেতা সোহেল রানা ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর বাদীপক্ষের সহযোগিতায় জমি দখলের চেষ্টা করে এতে আমরা বাধা দেই। এসময় তারা আমাদের ওপর মারপিট করে। এর পর বাদীপক্ষ তাদের পক্ষের একজন বিধবা মহিলার ঘরে আগুন লাগিয়ে আমাদের (সংবাদ সম্মেলন আয়োজক-চেয়ারম্যান মাহাবুবার রহমান দুলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর) ১৫ জনের নামে ওই বছরের ১৪ নভেম্বর একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 
পরবর্তীতে মেজর (অব.) মো. সোহেল রানার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিরোধীয় লোকমান হোসেন গং পুনরায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে নতুন করে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ৮৬/২০১৯ বাটোয়ারা মামলা আনয়ন করেন। এ মামলাটিও বর্তমানে চলমান রয়েছে। এমন অবস্থায় এ মামলায়ও হেরে যাওয়ার ভয়ে চলতি বছরের গত ২৮ মে, ৩ জুন ও ৬ জুলাই এমপি সোহেল রানা ও তার বাহিনী স্থানীয় বছির আহমেদ খান, তাহেরুল ইসলাম, রাশেদুজ্জামান, জাকিউল, মজিদুর রহমান ও ময়ফুল ইসলামসহ তার বাহিনীর লোকজনদের নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন।  বিষয়টি জানার জন্য লোকমান হোসেন গংয়ের লোকমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য অব. মেজর মো. সোহেল রানার মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ১০ বছর আগে আমি ওই জমি কিনেছি। ওই জমি নিয়ে শরিকদের মধ্যে মামলা চলছে। ওই মামলায় আমি কোন অংশিদার না। আমার কেনা জমি আমি দখল নিতেই পারি। তবে আমি যাদের কাছে জমি কিনেছি তারা যদি জমির অধিকার না পান সেক্ষেত্রে আমি জমি ছেড়ে দেব।