১৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ৩০ মুহররম ১৪৪২

লাল জামা–জুতার শিশুটির চোখে এখন বীভৎস দৃশ্য দেখার ভয়

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২০

লাল জামা–জুতার শিশুটির চোখে এখন বীভৎস দৃশ্য দেখার ভয়

লাল ফ্রকের সঙ্গে মিলিয়ে একই রঙা জুতা। মেহেদি রাঙানো হাতে চুড়ি। গলায় মালা। এমন সাজেই ছোট্ট তাসনিম মা-বাবার সঙ্গে বেড়ানো শেষে আনন্দের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। সেই আনন্দভরা শিশুচোখে এখন বীভৎস দৃশ্য দেখার ভয়। ট্রাকের বেপরোয়া চালক এক মুহূর্তে বাবাকে বিচ্ছিন্ন করে দিল তার কাছ থেকে। 

আজ বুধবার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে চার বছরের তাসনিমের সামনেই তার বাবা মোটরসাইকেল থেকে ট্রাকের নিচে পড়ে প্রাণ হারান। বেলা দেড়টার সময় ঘটে এ ঘটনা।
তাসনিমের বাবার নাম তাইজুল ইসলাম (৪৫)। মায়ের নাম আসমা বেগম (৩৬)।
বাবার মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা মায়ের কোলে বসে বাড়ি ফিরছিল তাসনিম। আজ দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে মায়ের সঙ্গে বামপাশে ছিটকে পড়ে তাসনিম। আর বাবা ছিটকে পড়েন ডানদিকে। ধাক্কা দেওয়া ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

চোখের সামনে বাবার এমন মৃত্যুতে হতভম্ব হয়ে পড়ে শিশু তাসনিম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বাবার লাশ দেখতে লোকজনের ভিড় দেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। আর মা আসমা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সদর হাসপাতাল চত্বরে।
নিহত তাইজুল ইসলাম পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটিকে ধরতে তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ভজনপুর এলাকায় পাহারা বসালে ওই এলাকায় ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান চালক।
তাইজুল ইসলামের চাচাতো ভাই সাজেদুর রহমান বলেন, আজ সকালে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বোদা উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। দুপুরে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। এ সময় সদর হাসপাতালের সামনে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে তাঁর ভাই ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে মারা যান। আর তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে সামান্য আহত হয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, তাসনিমেরা দুই ভাইবোন। তার ১৫ বছর বয়সী এক ভাই রয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল এবং ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিহত ব্যক্তির স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।