১৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ৩০ মুহররম ১৪৪২

কালের বিবর্তনে পঞ্চগড়ে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে ঐত্যিবাহী ঢেঁকি

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২০

কালের বিবর্তনে পঞ্চগড়ে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে ঐত্যিবাহী ঢেঁকি

একসময় বাড়িতে বাড়িতে ঢেঁকির প্রচলণ ছিলো। গ্রাম-গঞ্জের অধিকাংশ বাড়িতে এই ঢেঁকি ছিলো। কালের বিবর্তনে পঞ্চগড়ে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-গঞ্জের গৃহস্থলি কাজে ব্যবহৃত এক সময়ের ঐত্যিবাহী ঢেঁকি। আধুনিকতার যুগে রাইস মিল ও বিভিন্ন ধান কাটার মিলের কারণে দিন দিন বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় এই ঢেঁকি । তাই এখন আর শোনা যায় না ঢেঁকির আওয়াজ বা শব্দ । কালের পরিবর্তন বির্বতনে এই ঢেঁকি আর দেখা যায়না। তাই আধুনিক যুগে মানুষ ব্যস্ত আর সময়ের তাগিদে ছুটে যায় রাইস মিলে। সেখানে ধান, চাল ও আটা সহ অন্যান্য খাদ্য শস্য ভাঙ্গাতে। পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ইউনিয়নের সন্তরাপাড়া সহ তৎসংলগ্ন এলাকায় এক সময় ছিলো শত পরিবারের মধ্যে ঢেঁকির বহর। গ্রাম-গঞ্জের অসংখ্য পরিবার ধান,চাল এই ঢেঁকিতে ভাঙ্গাতো। ছিলো ওই চালের চাহিদা। এখন আর দেখা যায়না ঢেঁিকর চাল বা খাদ্যশষ্য
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকায় হঠাৎ দেখা যায় এক বাড়িতে পিঠা তৈরীর জন্য ৩জন গৃহবধূ ঢেঁকিতে চালের গুড়া করতে ব্যস্ত সময় পার করতেছে । জানা যায়,কাঠের তৈরী এই ঢেঁকিতে একসময় গ্রামের গৃহবধুরা ধান ভেঙ্গে চাল করে রান্না করতো এমন কি বিভিন্ন পিঠা তৈরীর জন্য চালের গুঁড়াও এই ঢেঁকিতে করতেন গৃহবধুরা এবং একমাত্র ঢেঁকিই ছিল গ্রাম গঞ্জের ধান ভাঙ্গার একমাত্র মাধ্যম ও ভরসা । দুই থেকে তিন জন মিলে ঢেঁিকতে ধান বা চালের গুঁড়া তৈরীতে কাজ করতো । দুজন পা দিয়ে পিছন দিয়ে পারা দিতো আর গুন গুন করে গান গাইতো এবং সামনে থেকে একজন চাল বা গুঁড়া চালানী বা কুলা দিয়ে সাটাই করতো। কিন্তু আধুনকিতার যুগে গৃহবধুরাউ বাড়তি চাপ না নেয়ার কারনে দিন হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের বহুল প্রচলিত এই ঢেঁকি। তবে কিছু কিছু এলাকায় কেউ কেউ তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছে ।

এবিষয়ে কথা হয় , জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকার গৃহবধু মিছিরন বেওয়ার সাথে , তিনি জানান,আমার মেয়ে তার শশুড়বাড়িতে চলে যাবে তাই মেয়ের জন্য পিঠা বানানোর জন্য ঢেঁকিতে চালের গুড়া ছাটতেছি আগে আমরা ঁেঢকিতে ধান ও চাল ভাঙ্গাতাম এখন আর ঢেঁকির ব্যবহার হয়না আর এখন কার গৃহবধুরা ঢেঁকি কি তা জানেই না আর আমরা প্রতিদিন ধান ভেঙ্গে চাল করে রান্না করতাম । একই কথা জানান,জেলার সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের ফুলপাড়া এলাকার গৃহবধূ জেসমিন বেগম, তিনি জানান,আমাদের বাড়িতে ঢেঁকি আছে কিন্তু তেমন ব্যবহার হয়না শুধু মাঝে মধ্যে পিঠা তৈরীর জন্য গুঁড়ার জন্য ব্যবহার করি তবে এক সময় অনেক দেখা যেতো গ্রাম-গঞ্জে ।এদিকে পঞ্চগড় জেলার দিশারী নাট্যগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ রিপন জানান, কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোয়ায় দিন দিন বিলুপ্তির পথে গ্রাম-গঞ্জের গৃহস্থলি কাজে ব্যবহিত এক সময়ের ঐত্যিবাহী ঢেঁকি ফলে এখন আর চোখে পড়ে না ঢেঁকি । তবে আমরা যদি আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম এই অংশ এই ঢেঁকি সংরক্ষণ করে রাখতে পারি তাহলে আমরা আমাদের এ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারবো ।তবে মানুষের মাঝে রয়েছে ‘ঢেঁকির চালের চাহিদা। অনেকে মনে করেন আধুনিক উপায়ে এই ঢেঁকির প্রচলন ধরে রাখা যেতে পারে। এজন্য কারিগরি পদ্ধতি স্থানিয় ভাবে জোড়দার করে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব। সাথে উন্নত চাল বাজারজাত করণ করা সহজতর হবে এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিস্তার ঘটবে। ফিরবে ঐতিহ্যবাহি ঁেঁঢকির প্রচলন।