২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিক্ষক দিবসে কালো ছায়া ধর্ষন!!

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২০

শিক্ষক দিবসে কালো ছায়া ধর্ষন!!

এম.এ সিদ্দিকী বাপ্পী কবি ও লেখক 
আজ শিক্ষক দিবস ফেবুতে অনেকের পোস্ট পড়ে জানলাম। বিষয়টি ভীষণ ভালো লেগেছে আমার কাছে। আমিও কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষক। সত্য কথা বলতে, আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনেক বিষয় প্রদানে ব্যর্থ। শিক্ষক বলতে শুধু ক্লাসে যাঁরা পড়ান তাঁরাই নন, বরং মা-বাবা, পরিবার ও পরিবেশের সবাই। প্রথমেই, শিক্ষার্থীদের সত্য বলায় উৎসাহ প্রদানের বিষয়টি দেখুন। ‘সত্য বলায় উৎসাহ প্রদান’ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পারিবারিক ক্ষেত্রে অতীব জরুরি। তখন সত্য বলতে শুরু করলে সত্য বলার অভ্যাস হবে। আর আমরাতো অভ্যাসেরই দাস৷ ফলে দেখা যাবে পরবর্তী জীবনে অসত্য বলার প্রবণতা থাকবে কম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে সত্য বলতে উৎসাহ করবেন? পরিবারের বড়রা ছোটদের ব্যবহারেই বুঝতে পারবেন শিশু সত্য বলছে না মিথ্যে বলছে। মিথ্যে বললে নিরুৎসাহিত করুন। কোন সাজা দিবেন না। আর সত্য বললে পুরস্কৃত করুন। শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে সত্য বললে শিক্ষকরা হাততালি দিয়ে হলেও উৎসাহ দিন। শিক্ষকগণ বেশি বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন। কেননা, আমরা বন্ধুর সাথেই সবকিছু শেয়ার করি। সেই বন্ধুটা শিক্ষক হলে ভুলগুলো বেশি শোধরানো সম্ভব। একটা সত্যান্বেষীর জন্ম দেওয়া সম্ভব। এইবার অনেক অভিভাবক ভাবছেন, আমরা তো সন্তানদের অমন পরিবেশেই রাখি। হ্যাঁ, আপনি রাখেন। কিন্তু, আপনার প্রতিবেশি তো রাখছেন না। হয়তো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার জন্য পারছেন না। একটা শ্রেণিকক্ষে সমাজের সকল স্তরের শিশুরা থাকে। তাই  প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকই বেশি পারেন শিশুদের সত্য বলায় উৎসাহিত করতে। আমরা যাঁরা শিশুদের পড়াই তাঁরা ভালোভাবেই জানেন, শিশুদের বিচার দেবার প্রবণতা বেশি। তাদের বিচার কানে না নেওয়াই ভালো। তারা নিজেরাই নিজেদের নালিশের সমাধান করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। (এক্ষেত্রে অনেক অভিভাবক আপনাকে শোকজ করতে পারে, কেন নালিশের বিচার করেন না? আমার সাথে এমনটা হয়েছিল একবার। উনাদের সুন্দর করে সামলে নিবেন।) শিক্ষার্থীদের দুষ্টুমি করতে দিন, যতই দুষ্টুমি করুক সত্য কথা বললে ছাড় দিন। এক জীবনে অনেকগুলো জীবন গড়ে দেওয়ার সুযোগটা কেনো মিস করবেন? আপনি আপনার শিক্ষার্থীদের মনের কথাটা শুনতে চান। আপনি যদি তার মনের কথাটা না শুনেন, সে আপনারটা গুরুত্ব দিয়ে শুনবে কীভাবে? অনুভূতি প্রকাশ খারাপ হলেও তার ভেতরের কথাটা শুনুন। তার অঙ্গভঙ্গি দেখুন। কেননা, আমরা যা বলি তাতে ৩৩% ভেতরের কথা এবং বাকি ৬৭% অঙ্গভঙ্গিতে। কারো বলার ভাষাটা ঠিক না কিন্তু অঙ্গভঙ্গি ভালো, তাকেই দুষ্টুমি বলি। অনেক সময় অঙ্গভঙ্গি ফলো না করলেই দুষ্টুমিটা বেয়াদবিতে রূপান্তরিত হয়। আপনি যা বেয়াদবি ভাবছেন তার দৃষ্টিকোন থেকে খেয়াল করুন নিখাদ ভালোবাসা পাবেন।
সত্য বলার প্রবণতা এবং আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারলেই অপরাধ কমানো সম্ভব। উপরের পুরু প্যাকেজের বাস্তবায়ন সকলের কর্তব্য, সব সমাজের দায়িত্ব। আপনি এমনটি করেই দেখুন, এই প্রতিযোগিতার বাজারে সবাই এমন হতে চাইবে। তবেই ধর্ষণ, খুনের মতন অপরাধ কমবে। পৃথিবীতে কোথাও এর শতভাগ সমাধান সম্ভবপর। এমসি কলেজের ধর্ষণ বলুন আর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের যুবকদের কথাই বলুন এদের কারো আত্মবিশ্বাস নাই। যার জন্য বড় ভাইয়ের ছত্রছায়া খাচ্ছে, আর পিস্তল তাদের বিশ্বাস যোগাচ্ছে, আর ভেঙে যাচ্ছে পুরো জাতি।