২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ছাত্র ইউনিয়নের ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতি

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০২০

ছাত্র ইউনিয়নের ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতি

নিউজ ডেস্ক: ধর্ষণের প্রতিবাদের নামে সারাদেশে মাঠে নেমেছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির। ধর্ষণবিরোধী চলমান আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের আদর্শের লোকজনের উপস্থিতি আন্দোলনের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এমনটাই মনে করছেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর ছাত্রলীগ বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ। তবে ছাত্র ইউনিয়ন বলছে, জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশের ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবে।

সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সোমবার শাহবাগে ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা দেন জামায়াতের বি টিম হিসেবে পরিচিত আমার বাংলাদেশ পার্টি অর্থাৎ এবি পার্টির যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব মিনার।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছাত্র ইউনিয়নের মতো ভিন্নধর্মী একটি রাজনৈতিক দল জামায়াত-শিবিরকে শাহবাগমুখী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে করে, তারা আদর্শহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি সামাজিক আন্দোলনটি বর্তমানে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, ‘আব্দুল ওহাব মিনার সমাবেশে যোগ দিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেননি।

কিন্তু, রাতের বেলা যখন এবি পার্টির ফেইসবুক পেজে তার বক্তৃতার ভিডিও আপলোড করা হয় তখন আমরা জানতে পারলাম তিনি এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক।’ আন্দোলনে যোগ দেয়া অনেককেই তারা চেনেন না বলেও জানান অনিক রায়।

এই সুযোগে ধর্ষণের প্রতিবাদের নামে সারাদেশে মাঠে নেমেছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এবি পার্টির মতো বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের যখন সামাজিক আন্দোলনে ভাষণ দিতে দেখি তখন মনে প্রশ্ন জাগে এসব আন্দোলন আসলে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে।’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলনের নামে আসলে সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যে তা সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে তারা সরকার বিরোধী চক্রান্ত করছে।’

এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ডাকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে নানা ব্যানার-ফেস্টুনে নানা লেখনীর মাধ্যমে আক্রমণ করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এমনকি পুড়ানো হয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘ধর্ষক বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে ধর্ষকরা গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা আসলে চায় কি। আন্দোলনকারীরা ধর্ষকদের বিচার না চেয়ে সরকারের পতন চাচ্ছে। এখানে আসলে ষড়যন্ত্র চলছে।’

কিন্তু ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের সকলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকারের দুর্বল দিক নিয়ে সমালোচনা করা এবং ভালো কাজের প্রশংসা করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। তবে, পুলিশ বলছে সামাজিক আন্দোলনকে পুঁজি করে কাউকে ফায়দা লুটতে দেয়া হবে না।