২১, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার | | ৯ রমজান ১৪৪২

বাঘারপাড়ার এক গ্রাম পুলিশ আদালতের রায় পক্ষে পেয়েও পৈত্রিক জমি দখল নিতে পারছেন না

আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

বাঘারপাড়ার এক গ্রাম পুলিশ আদালতের রায় পক্ষে পেয়েও পৈত্রিক জমি দখল নিতে পারছেন না

শান্ত দেবনাথ,বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা : গুরুপদ দেবনাথ এক বিঘা জমি নিয়ে ১৮ বছর আদালতে মামলা চালিয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত পাঁচটি ধাপের প্রতিটি রায় তার পক্ষে এসেছে।
তার পরেও সে নিজের পৈত্রিক জমিতে দখল নিতে পারছে না। উপরোন্ত জীবন শংকায় দিন পার করছে বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের শালবরাট গ্রামের মৃত গোবিন্দ দেবনাথের ছেলে গুরুপদ দেবনাথ।
গুরুপদ দেবনাথ জানিয়েছেন, তার চাচা গোপাল দেবনাথ ভারতে যাওয়ার আগে তার বিষয় সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। চাচার বিক্রিত সব সম্পত্তি ক্রয় করেন প্রতিবেশি, (নব কুমার দেবনাথ,পিতাঃমৃত নলিনী দেবনাথ),মান্দার দেবনাথ, ‘সুশান্ত দেবনাথ । জমি দলিল করার সময় চাচা গোপাল দেবনাথ চালাকি করে আমার পৈত্রিক সম্পত্তির ৩৩ দশমিক ৫ শতক জমি গ্রহীতাদের দলিলে অর্ন্তভুক্ত করে দেন। এরপর আমি বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করি। তাতে কোন লাভ হয়নি।
জমি গ্রহীতারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় জমি দখল করে নেয়। এরপর আমি ২০০০ সালে বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালত যশোরে মামলা করি। মামলা নং ৪৮/২০০০।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ গুরুপদ দেবনাথ আরো জানান, ‘দুই পক্ষের শুনানী শেষে ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। এরপর বিবাদীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল করে। আপিল নং ১১৯/০৬। আদালত ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর আপিলের রায় দেন আমার পক্ষে।
এরপর বিবাদীরা সুপ্রিম কোটের হাইকোট ডিভিশনে আপিল করে। আপিল নং ৪৪৬/০৯। ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোট নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখে রায় প্রদান করেন।
আদালতের এসব আদেশ জারির জন্য আমি জজ আদালতে কমিশন করি। কমিশন আমার অনুকুলে গত ১৭ আক্টোবর চুড়ান্ত ডিগ্রী জারি করে। সম্প্রতি আমি ঐ জমিতে বোরে আবাদের জন্য দখল নিতে গেলে বিবাদীরা লাঠি সোটা এনে জোর করে আমাকে জমি থেকে বের করে দেয়। এরপর তারা আমাকে জীবন নাশের ভয়ভীতি দেখান’।
এ বিষয়ে গুরুপদ দেবনাথ গত ১২-১২-১৮ মঙ্গলবার বাঘারপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।