১৬, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

টাঙ্গাইল-(কলিহাতী) আসনে ঐকফ্রন্টের প্রার্থী ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

টাঙ্গাইল-(কলিহাতী) আসনে ঐকফ্রন্টের প্রার্থী ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কা

হঠাৎ করে বির্তকিত আওয়ামীলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী করায় টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনে ভরাডুবির আশংঙ্কা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরাই। তবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান সাংসদ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী। 
নির্বাচনী এলাকার অনেকেই জানান, টাঙ্গাইল-৪ আসনে নির্বাচন মাঠে লড়াই হবে আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দেয়া এই আসনে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ধানের শীষ প্রতিকে তিনি বির্তকিত একজন আওয়ামী লীগ নেতা। মনোনয়নের কয়েক দিন আগেও তিনি নৌকার ভোট চেয়েছেন। এলাকায় নৌকাকে বিজয়ী করতে সভা-সমাবেশ করেছেন। জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচনের মাঠে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়া বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে তিনি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপরই তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে কেন্দ্রে জোর তদবির চালিয়েছেন। এজন্য বিভিন্ন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন দলীয় কমান্ডের নজরে আসার জন্য। কিন্তু সর্বশেষ যখন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ সোহেল হাজারীকে মনোনয়ন দেয়া হয় তখনই দল পাল্টিয়ে ধানের শীষ প্রতিকের জন্য ঐক্যফন্টের অন্যতম নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে যোগদান করেন। এরপরই বিএনপির যোগ্য প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা ইন্জিয়ার মোহ আব্দুল হালিম মিয়া বাদ দিয়ে বিএনপি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যফ্রন্ট (কাদের সিদ্দিকীকে) আসনটি ছেড়ে দেন। 
কালিহাতী তৃণমুলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এই আসন বিএনপি ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দেয়ায় কালিহাতীতে ধীনের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী। অথচ তার সাথে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোন যোগাযোগ নেই। এই প্রার্থীকে এখনও কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। যিনি আওয়ামীলীগের হয়ে মনোনয়নের কয়েকদিন আগেও নৌকা প্রতিকে ভোট চেয়েছে তিনিই কিনা ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবে। এটা বিএনপিকে পচাঁনোর জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে হীন করার জন্য তিনি দলে প্রবেশ করেছে। এখনও লিয়াকত আলীর নৌকা প্রতিকের পোষ্টার রয়েছে গ্রামগুলোতে। উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম জানান, যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার সাথে এখনও কোন কথা বা নির্বাচনী মাঠে নামা হয়নি। তবে প্রার্থী দূর্বল হলেও বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।
উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ মোল্লা, দল জাতীয় স্বার্থে এই আসনটি ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দিয়েছে। এই সুযোগে একজন অযোগ্য লোক ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবে। যিনি পূর্বে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তাকে তৃণমুলের অনেকেই চিনে না-জানে না তার সম্পর্কে। এই আসনে যদি বিএনপি থেকে হালিম ইন্জিনিয়ার কে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হত তাহলে বিপুল ভোটে জয়ী হত। আসনটি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারতাম। বিএনপি থেকে এই আসনে লুৎফর রহমান মতিনকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তিতে তা পরিবর্তন করে ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দেয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ জানান, ব্যক্তি নয় ধানের শীষ প্রতিক বিজয় করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ধানের শীষ পাওয়া লিয়াকত আলীর সাথে এখনও তেমনভাবে কথা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে তার সাথে কথা হচ্ছে। 
এবিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাপ্পি নামের তার ব্যক্তিগত সহকারি ফোন রিসিভ করে স্যার ব্যস্ত আছেন বলে জানান।