১২, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

অপার সৌন্দর্যের এক লিলাভূমি নওগাঁর “আলতা দীঘি”

আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

অপার সৌন্দর্যের এক লিলাভূমি নওগাঁর “আলতা দীঘি”

রবিউল ইসলাম ( জয়পুরহাট প্রতিনিধি:  ” আলতা দীঘি ” যেমনই অদ্ভুত তার নাম ঠিক তেমনই অদ্ভুত তার সৌন্দর্য।রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পাইকবান্ধা রেঞ্জের অধীন ধামইরহাট বিটে অবস্থিত।
জয়পুরহাট জেলা সদর হতে মাত্র ২৭ কি.মি দূরত্ব বলেই কি না আমারা জয়পুরহাটবাসী এটিকে নিজেদের বলে ভাবতে মোটেই কার্পণ্য করিনা।

তার এমন অদ্ভুত নামের পেছনে কিন্তু রয়েছে দারূণ এক সত্য কাহিনী যা লোকমুখে ব্যাপক সমাদৃত অথবা আপনি গুগল করেও দেখতে পারেন।

আনুমানিক ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চলের রাজা বিশ্বনাথ জগদল রাজত্ব করতেন। সেই সময় এতদাঞ্চলে পানির অভাব প্রকট ধারন করেছিল। কথিত আছে একদিন রানী স্বপ্নে দেখলেন যে, উক্ত এলাকার পানির সমস্যা নিরসনের জন্য একটি বৃহৎ দিঘী করতে হবে। সেই মতে রাণী রাজাকে বললেন আমি পায়ে হেটে যাব এবং যতক্ষন পর্যন্ত আমার পা ফেটে রক্ত না বের হবে ততক্ষন পর্যন্ত হাঁটতে থাকব।

আমি যতদুর পর্যন্ত হাঁটব ততবড় একটি দিঘী খনন করে দিতে হবে। রাণীর কথামত পাইকপেয়াদা বাঁদিসহ রাণী হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে রাণী বহুদুর চলে যাচ্ছিলেন। তখন পাইক পেয়াদারা চিন্তা করল রাণী যদি হাঁটতে থাকেন তাহলে রাজার পক্ষে এতবড় দিঘী খনন করা সম্ভব হবে না। তাই তারা হাঁটার এক পর্যায়ে রাণীর পিছন থেকে রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠে বলল রাণীমা আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রাণীমা উক্ত স্থানে বসে পড়লেন। রাজা বিশ্বনাথ জগদল সে পর্যন্ত উক্ত দিঘীটি খনন করলেন। রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দেওয়ার প্রেক্ষিতে দিঘীটির নামকরণ করা হয় “আলতাদিঘী”।

চারিদিকে বন পরিবেষ্টিত এই  দীঘি দেখলে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। সাথে উইপোকার বিরাট বিরাট ঢিবি ও একটি দর্শনীয় বস্তু বটে৷

চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন জয়পুরহাট থেকে এত কাছের এই মনোমুগ্ধকর জায়গাটি।