২৮, নভেম্বর, ২০২০, শনিবার | | ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সেনা মোতায়েনে পরিস্থিতি ঘুরবে, আশায় রিজভী

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৮

সেনা মোতায়েনে পরিস্থিতি ঘুরবে, আশায় রিজভী

মোঃ খোরশেদ আলম( মুরাদনগর প্রতিনিধি) :
সেনা মোতায়েন হলে নির্বাচনের এখনকার পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালন শুরুর ‍দুদিন আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ছয় দিন আগে ২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। সেনাসদস্যরা থাকবেন ২ জানুয়ারি পর্যন্ত।বিএনপি বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন চাইলেও তা হচ্ছে না, সেনাসদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে কাজ করবেন।দাবিপূরণ না হলেও আশাবাদী রিজভী বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক। জনগণের তাদের প্রতি একটি ভরসা আছে। তাদের মোতায়েন করা হলে সন্ত্রাসীরা জাল ভোট দিতে পারবে না এবং রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভর্তি করতে পারবেন না, এটা জনগণের বিশ্বাস।“এই বিশ্বাসটুকু সেনাবাহিনীর সদস্যরা রক্ষা করতে পারবেন, এটা জেনেই দলমত নির্বিশেষ বিরোধী দল বার বার সোচ্চার কণ্ঠে বলে আসছিলো। কিন্তু সরকার নানা টালবাহানা করে এখনও পর্যন্ত তাদের মোতায়েন করেনি।”“এখন বলছেন ২৪ তারিখে নামাবেন। আমার বিশ্বাস যদি সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয় জনগনের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাতে,” বলেন রিজভী।ভোটের প্রচারে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। পুলিশের গ্রেপ্তার-হয়রানি নিয়েই তাদের অভিযোগ বেশি।বিএনপি নেতারা আশা করছেন, সেনাসদস্যরা মাঠে নামলে পুলিশের কর্তৃত্ব খর্ব হবে।ফেইসবুক ও টুইটার সম্প্রতি বিরোধী জোটকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে যে কয়েকটি একাউন্ট বন্ধ করেছে, তা নিয়েও কথা বলেন রিজভী।তিনি বলেন, “আমি এর আগেই বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি এটা তত্ত্বাবধায়ন করতেন। ভুয়া ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুকে বিভিন্ন পেইজ চালু করে বিএনপির একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে নানা নেতার বক্তব্যকে কাটপিস করে তারা এসব ছেড়েছেন।“সহজ-সরল পথ অবলম্বন করার সাহস আওয়ামী লীগের নেই। এই কারণেই এসব রোধে আমরা বার বার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলে আসছি।”সংবাদ সম্মেরনে বলা হয়, নওগাঁ, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঢাকা, বগুড়া, লক্ষ্মীপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজার, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, জামালপুর, মাগুরা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারে বাধা, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রিজভী বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলার সংখ্যা ২৫৮টি। এজাহারে জ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৪২ হাজার ৬৬৩ জন, অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮৮৩ জন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৭৫ জন এবং হত্যার সংখ্যা চারজন।”নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, মুনির হোসেন।