২৮, জানুয়ারী, ২০২০, মঙ্গলবার | | ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সব দলকেই সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা দিতে হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৮

সব দলকেই সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা দিতে হবে:   মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মোঃ খোরশেদ আলম( মুরাদনগর প্রতিনিধি) :
এদেশের নির্বাচনে জনগণের যে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সত্যিকার অর্থে তা অসাধারন। নির্বাচনের দিন যেবাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, এদেশের নির্বাচনে জনগণের যে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সত্যিকার অর্থে তা অসাধারন। নির্বাচনের দিন যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে তা দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। যে কারণে এদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দলই নিরাপদে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তাদেরকে সারা দেশে মতপ্রকাশের, শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ, র‌্যালী করার স্বাধীনতা দিতে হবে। আজকে যেমন শক্তিশালী গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে, তা নির্বাচনের দিনও অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য আমি সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।  শনিবার সন্ধ্যায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সমাপনী পর্বের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সমাপনী পর্বের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সাফল্য নাগরিকের উপর নির্ভর করে। এদেশে অধিক সংখ্যক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেয়, এটা দেখে আমি অভিভূত। এটা ৭০ শতাংশের মতো। আমি আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমেরিকার নির্বাচনেও এমন সংখ্যক মানুষই অংশগ্রহণ করবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা না করতে সকল দলের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছি। এ জন্য সব দলগুলোকেই সহিংসতা এড়িয়ে দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করতে হবে। সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই জাতির আশা। পুরো পৃথিবীই এখন তরুণদের উপর নির্ভর করে। তোমরাই পারবে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে। পরিবর্তনের জন্য সংখ্যা কোন বিষয় না। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা, দয়া প্রদর্শন করে এগিয়ে যাও, আঘাত করে নয়। তোমাদের গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা ৩০ ডিসেম্বর উদযাপন কর। বিতর্কে উৎসবে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কে অংশ নেয়। এদিন সকাল ১০টায় বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন করেন টিএসসির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম জিয়াউল হক মামুন। বিতর্কে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মোট ১৬টি দল অংশ নেয়। ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন ঢাবি ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন। সমাপনী উৎসবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এস এম রাকিব সিরাজী, সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আসাদসহ ডিবেটিং সোসাইটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিতর্ক অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়। প্রসঙ্গত, ডেমোক্রেসি ইন্টারনেশনাল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ মাস ধরে ‘শান্তিতে বিজয়’ কর্মসূচী পালন করছে। তারা বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।