২২, জানুয়ারী, ২০২০, বুধবার | | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

কালিহাতীতে নানা ভয়ভীতির মধ্যে আতঙ্কিত রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

কালিহাতীতে নানা ভয়ভীতির মধ্যে আতঙ্কিত রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ঐক্যফ্রণ্টের
নেতাকর্মীরা নানা ভয়ভীতির মধ্যে  আতঙ্কিত
হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। থানা পুলিশ
রাতের আধারে বাড়িতে গিয়ে সরকারদলীয়
প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে পাঁচটি গায়েবী মামলা দায়ের করে
অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে
জেল-হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ফলে
ঐক্যফ্রণ্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী
নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না।
সোমবার(২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল
প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এক
সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন প্রার্থী
ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী। এরআগে
তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ
সংক্রান্ত দুইটি লিখিত অভিযোগ দাখিল
করেও কোন সুফল পাননি বলে সংবাদ সম্মেলনে
দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি
জানান, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) নির্বাচনী
এলাকার বিভিন্ন স্থান উল্লেখ করে পুলিশ
বিস্ফোরক ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে
গায়েবী মামলা দায়ের করে বিএনপি ও কৃষক
শ্রমিক জনতালীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার
ও হয়রানি করছে। পুলিশ ২০৭ জনের নামোল্লেখ
ও পৌনে দুইশ’ জনকে অজ্ঞাত করে পাঁচটি পৃথক
মামলা দায়ের করেছে এবং প্রায় দিনই
ঐক্যফ্রণ্টের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা-
সাজানো মামলা দায়ের করছে। রোববার(২৩
ডিসেম্বর) দিবাগত রাতেও উপজেলার বিভিন্ন
স্থানে হানা দিয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের
অন্যত্র চলে যাওয়ার অথবা নৌকার পক্ষে কাজ
করার জন্য শাসিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক
চেয়ারম্যান সিরাজ ও স্থানীয় মজিবর রহমান
আমার (ঐক্যফ্রণ্টের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো.
লিয়াকত আলীর) গাড়ির গতিরোধ করে
হুশিয়ারি দেন, দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রত্যেক
কেন্দ্রের ভোট জোর করে সিল মেরে নৌকার
পক্ষে নেবেন, আমাকে একটি ভোটও দিতে
দিবেন না’। তাদের প্রকাশ্য হুমকিতে ওই
ইউনিয়নের চর দুর্গাপুরের পূর্ব নির্ধারিত
‘কর্মসূচি’ তিনি বাতিল করতে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত
আলী জানান, জননেতা আবদুল লতিফ
সিদ্দিকী একজন ভদ্রলোক, শান্তিপ্রিয় মানুষ।
তিনি নির্বাচন কমিশনের উপর অনাস্থা এনে
ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাকেও
নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে সরকার দলীয়
প্রার্থী পুলিশ দিয়ে নানা ফন্দি-ফিকির
করছেন। এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে তিনি
নির্বাচন কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জরুরি
হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কিন্তু মৃত্যু হলেও
তিনি নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবেন
না বলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সাথে ছিলেন,
কালিহাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো.
শুকুর মামুদ, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি
লুৎফর রহমান তালুকদার, উপজেলা মহিলা দলের
সভাপতি রিনা বেগম সহ ২০-২২জন নেতাকর্মী।