৩, জুলাই, ২০২০, শুক্রবার | | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪১

নির্বাচনী স্লোগান ও গানের ক্যানভাসে মুখরিত ফুলবাড়ীয়া

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

নির্বাচনী স্লোগান ও গানের ক্যানভাসে মুখরিত ফুলবাড়ীয়া

মোঃ হাবিবুল্লাহ হাবিব, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ জাতীয় একাদশ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। বাড়ছে গণসংযোগ প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনী স্লোগান ও গানের নগরীতে রূপ নিয়েছে ফুলবাড়ীয়া। প্রতিদিন দুপুর ২টা পেরুলেই চারিদিকে মাইকের শব্দ। নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে প্রার্থীরা ভাড়া করা মাইকে পৌরনগরজুড়ে বাজানো হচ্ছে নির্বাচনী গান ও স্লোগান। কেউ বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিচ্ছেন আবার কেউ দেখছেন শব্দ দুষণ হিসেবে। অনেকের কাছে ভাল লাগছে। আবার অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দুইটা। উপজেলা পরিষদ সামনে মহাজোট প্রার্থীর পে স্লোগান চলছে। চিরো চেনা স্লোগান। ‘ভোট চাই ভোটারের, দোয়া চাই সকলের।’ ‘নৌকা মানে উন্নতি, নৌকা মানেই প্রগতি।’ ‘মোসলেম ভাইয়ের সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’ পাশেই উচ্চ আওয়াজে বাজছে গান। ধানের শীষের পে ভোট চাওয়া হচ্ছে গানের তালে তালে। ‘ধানের শীষের হবে জয়, ও ভাইজান গো’। অপর দিকে স্বত্যন্ত্র প্রার্থী মিন্টু (স্বত্যন্ত্র সিংহ মার্কা) এবং ডা. কে.আর. ইসলাম (লাঙ্গল) প্রচারও পিছিয়ে নেই। মাত্র ৫০ গজ দুরে আরো একটি মাইক। সেখানেও বাজছে নৌকা মার্কার থিম সং। ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা।’ জয় বাংলা, শেখ হাসিনার সালাম নিন।’ জয় বাংলা, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’। পৌরসদর চান্দের বাজার সেখানে উপস্থিত হতেই কানে ভেসে আসে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ফোক গানটির প্যারোডি করে বানানো হয়েছে, ‘শোন ফুলবাড়ীয়ার জনগণ, মোসলেম ভাই মানুষ খাঁটি, নৌকা মার্কায় ভোট মোরা চাই।’ অল্প দুরেই চলছে ধানের শীষের প্রচারনা। সেখানে বাজছে ‘চল চল চল, উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ রন সংগীতের আদলে বিএনপির প্রচার গান। একের পরে এক মাইকের গান ও স্লোগানে ভাসছে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা। প্রতিদিন এভাবে পৌরসদর ও উপজেলাজুড়ে বাজছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রচারণা মাইক। এর বাইরে সবমিলিয়ে অন্তত দেড়শটি মাইক বাজছে ভোট চেয়ে। এসব মাইকিং অনেকের কাছেই শব্দ দূষণ মনে হলেও অনেকেই উপভোগ করছে। চান্দের বাজার মনোহারী আবুল কালাম দোকানদার জানান, ভোট মানে উৎসব। তাই নির্বাচনে মাইক ছাড়া কি চলে। এই তো কটা দিন। এমন উৎসব তো আর সারা বছর থাকে না। সংসদ নির্বাচনের এসব প্রচারনা ও স্লোগান মুখরিত গান বাজনা উৎসবের সাথেই হয়ে থাকে। ৫ বছরে একবার হওয়ার কথা থাকলেও এবারে ১০ বছর পরে মুখরিত হচ্ছে এই ফুলবাড়ীয়া। পাকিস্তানপাড়ার হাসেম বলেন, নানান গানে প্রার্থীদের প্রচার শুনতে বেশ ভালোই লাগে। অনেকদিন পর এসব গান বাজছে ফুলবাড়ীয়াতে। তবে অনেকেই বিষয়টিকে শব্দদূষণ হিসেবেই দেখছে। তিনি আরো বলেন, কখনো কখনো একই স্থানে একই সাথে চারটি-পাঁচটি করে মাইক বাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন গানের সঙ্গে প্রতীক উল্লেখ করে ভোট চাওয়া এসব মাইকের যন্ত্রণায় পথচারীরা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। বিশেষ করে রাস্তায় বের হলে কোনো পথচারী মোবাইল ফোনে ঠিকমতো কথা বলতেও পারছেন না আবার শুনতেও পারছেন না। আবার রাস্তার ধারে দোকান হওয়ায় খদ্দেরদের কথাও ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে না মাইকের শব্দে। মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন, ‘৩০-৩২ বছরের এক যুবক মাইকের শব্দের কারণে শুনতে পাচ্চিলেন না ওপারের কথা। তাই চিৎকার দিয়ে হ্যালো হ্যালো করছিলেন তিনি। আর বলছিলেন, কিছু শোনা যাচ্ছে না মাইকের শব্দে। পরে কথা বলছি। এরপর ফোনটি কেটে দিলেন তিনি। কাছে গিয়ে কথা হয় ওই যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এটা কোনো প্রচারণা হলো। যারা ভোট যাকে দিবেন, সেটি তো মনের ব্যাপার। এভাবে তীব্র শব্দে মাইক বাজিয়ে শব্দদূষণ করে কী ভোট পাওয়া যাবে। নাকি মানুষ ভোট দিবে। এতে মানুষ তো আরো বিরক্ত হচ্ছে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এদিকে মাইকের এ প্রচারণা সম্পর্কে ফুলবাড়ীয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করছেন সাধারণ মানুষ।