৬, জুলাই, ২০২০, সোমবার | | ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

খুলনায় কৃষকের দু’ হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন ও পায়ের রগ কাটার ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৯

খুলনায় কৃষকের দু’ হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন ও পায়ের রগ কাটার ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ঃখুলনার রূপসা উপজেলায় কৃষক সাদ্দাম হোসেন (৬৫)’র দু’হাতের কব্জি কেটে হাত থেকে বিচ্ছিন্ন ও দু’পায়ের রগ কর্তনের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত সাদ্দামের ছেলে মো. অসীম শেখ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রূপসা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জাবুসা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের পুত্র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. লিটু শেখকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হচ্ছে- একই গ্রামের ইশারাত ফকিরের পুত্র মো. রাসেল ফকির, মো. রাজু ফকির, মো. লিয়াকত ফকিরের পুত্র মো. শাকিল ফকির, আকমল ফকিরের পুত্র তূর্য্য ফকির, মৃত আরশাদ ফকিরের পুত্র মো. নজু ফকির, হাশেম ফকিরের পুত্র তামীম ফকির, হাফিজার মোল্লার পুত্র মো. নাদিম মোল্লা ও লোকমান ফকিরের পুত্র মো. কামাল ফকির। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৩/৪ জন জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর পুলিশ নজু ফকিরকে গ্রেফতার করে। তবে আর কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার নজু ফকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সোমবার ফজরের নামাজ আদায় করার পর সকাল ৭টার দিকে তার বাবা সাদ্দাম হোসেন রূপসা সেতুর নিচে তোফাজ্জেলের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। দোকানে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে রূপসা সেতুর নিচে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, কুড়াল, আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরিসহ তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যানযোগে সেতুর নিচে পৌঁছে পিলারের আড়ালে অবস্থান করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামিরা পিলারের আড়াল থেকে বের হয়ে চারদিক থেকে তার বাবাকে ঘিরে ফেলতে থাকে। আসামিদের উপস্থিতিতে তার বাবার সন্দেহ হলে তিনি বাড়িতে ফোন দিতে গেলে লিটু শেখের হুকুমে অন্যান্য আসামিরা তাকে জাপটে ধরে। এ সময় কামাল ও নজু ফকির তার দু’ হাত মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। রাসেল তার পিঠের ওপর উঠে গলা চেপে ধরে। এসময় তামিম চাপাতি দিয়ে তার ডান হাতের কব্জি এবং শাকিল চাপাতি দিয়ে বাঁ হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আর নাদিম ছুরি দিয়ে বাঁ পা ও কামাল ফকির চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান পায়ের গোড়ালির ওপর কুপিয়ে শিরা কেটে পা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে আমার মা ছায়রা বেগম ও ছেলে অসীম ঘটনাস্থলে যেতে গেলে নজু ফকির ও কামাল ফকির ধারাল অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে। এ সময় তাদের চিৎকারে লোকজন জড় হতে থাকলে আসামিরা তার বাবার কেটে ফেলা হাত দু’টি নদীর পাড়ে ফেলে মোটরসাইকেল ও ভ্যানযোগে গ্রামের দিকে চলে যায়।
সাদ্দাম হোসেনের বড় ছেলে নাসিম শেখ বলেন, এর আগে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামিদের সাথে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১২ সালের ৩ আগস্ট সন্ত্রাসীরা তার বাবাসহ পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় নজু ফকিরসহ ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া এর আগে এদের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হোসেন আদালতে ১০৭ ধারায়ও একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত সাদ্দাম হোসেনের ছেলে অসীম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত নজু ফকিরকে ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭ জানুয়ারি সকালে সন্ত্রাসীরা রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামের সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে দু’হাতের কব্জি থেকে হাত বিচ্ছিন্ন এবং দু’পায়ের রগ কর্তন করে। আহত সাদ্দাম বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।