৭, আগস্ট, ২০২০, শুক্রবার | | ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কুষ্টিয়ায় টাকা দিয়েও মেলেনি এই বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার কার্ড

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯

কুষ্টিয়ায় টাকা দিয়েও মেলেনি এই বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার কার্ড

এ,জে সুজন: কুষ্টিয়ায় বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বয়ং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংরক্ষিত আসনের এক মেম্বার সরাসরি জড়িত। তার নাম শিল্পী খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য (মেম্বার)।

এমনকি টাকা দেওয়ার পরও কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে ঐ ইউপি সদস্য ও তার লোকজন ভুক্তভোগী এক পরিবারের সদস্যকে মারধোর করে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভুক্তভোগী সেই পরিবারের সদস্যদের জঙ্গী আখ্যা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকিও দেয় ঐ মেম্বার।

বটতৈল গ্রামের ভুক্তভোগী ফুলজান নেছার ছেলে পান দোকানী সাত্তার জানান, ২০ বছর আগে আমার বাবা মারা গেছেন। এতোদিন পার হলেও আমার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড হয়নি। তাই গ্রামের কয়েকজনের অনুরোধে ঐ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শিল্পী খাতুনের কাছে ধর্ণা দেয় আমার মা। কিছুদিন পরে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবে কিন্তু অগ্রীম ২ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায় শিল্পী মেম্বার। খুব কষ্টে সেই মহিলা দুই হাজার টাকা সংগ্রহ করে সেই সাথে ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড মহিলা মেম্বারের কাছে দেয়।

কিন্তু টাকা নেওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিধবা ভাতার কার্ড করে না দেওয়ায় তার ছেলে সাত্তার গত বুধবার রাতে তার মাকে নিয়ে সেই মেম্বারের বাড়ীতে যান। এসময় সেখানে গিয়ে দেখেন একটি সালিশী বৈঠক চলছে। সেই বৈঠকে সকলের অনুমতি নিয়ে সাত্তার বলেন, আমার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েও বিধবা ভাতার কার্ড করে দিচ্ছেনা। ঐসময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তার কাছে জানতে চান কোন সে মেম্বার। তখন শিল্পী মেম্বারের নাম বলতেই মেম্বারের নির্দেশে তার স্বামীসহ তার লোকজন সাত্তারকে বেধড়ক মারপিট করে। সেই সালিশী বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধীক ব্যক্তি জানান, সেখানে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানের উপস্থিত থেকে মারপিটের ইন্ধন দেন।

এদিকে ফুলজান নেছার গেলে তিনি বলেন, তারা খুব প্রভাবশালী (মহিলা মেম্বার) আমার ছেলেকে সেদিন মেরেছে। আবার যদি আপনাদের (সাংবাদিকদের) কাছে অভিযোগ করি তাহলে আমাদের বাড়ীঘর ভেঙ্গে তুলে দেবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার দুই হাজার টাকা গেছে তাতে কোন দু:খ নাই, আমার বিধবা ভাতার কার্ড দরকার নেই।

এদিকে গতকাল সরেজমিনে ঐ এলাকায় গেলে আরও অনেকেই এমন অভিযোগ করেন। বটতৈল ভাটাপাড়া এলাকার মৃত: ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইয়ার আলী মৃধার কাছ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেবে বলে ৬ মাস আগে ২ হাজার টাকা দাবী করেন। কিন্তু তিনি নগদ এক হাজার টাকা দেন এবং বাকী টাকা কার্ড পাওয়ার পরে দেবে মেম্বারকে দেবেন। মেম্বার সেসময় তাকে ১৫ দিনের মধ্যে কার্ড করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন কার্ড করে দেয়নি।

একই এলাকার রুস্তম আলীর স্ত্রী চায়না বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবে বলে আজও সেই ভাতার কার্ড করে দেয়নি।

সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য (মেম্বার) শিল্পী খাতুনের সাথে মুঠোফোনে গতকাল রাত ৯.২৪ মিনিটে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই পরিচয় দিয়ে একজন জানান, ওনি বাসায় নেই আপনি পরে ফোন দেন। এর আগে তার এলাকায় তথ্যানুসন্ধানে গেলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিক ও ভুক্তভোগিদের দেখে নেওয়ার হুমকীও দেন।

বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, দেরীতে আমি ঐ শালিসে গিয়েছিলাম তাই মারধোর দেখতে পারিনি।

এ ব্যাপারে বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে কেউ করেনি।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলিয়া সুকায়না বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।