২১, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার | | ৯ রমজান ১৪৪২

নোয়াখালীতে ধর্ষণের শিকার জননীকে দেখতে গেলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

নোয়াখালীতে ধর্ষণের শিকার জননীকে দেখতে গেলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি

জে এস আব্দুর রহমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি : আজ ১৪ জানুয়ারী (সোমবার) নোয়াখালীর সুবর্ণচরে (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় আওয়ামীলীগ কর্মীর হাতে ধর্ষিত চার সন্তানের জননীকে দেখতে যান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোবারক হোসেন। এসময় তিনি ধর্ষিত জননীর হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান মজুমদারসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শিবির সভাপতি বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধর্ষণ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণ ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ধর্ষণের মত ঘৃন্য কাজ নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। শুধু সুবর্ণচরে নয় বরং সারাদেশেই ধর্ষণকে মহামারিতে রুপ দিয়েছে তারা। এর আগে শরিয়তপুরে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বরিশালে ছাত্রলীগ নেতা সুমন হোসেন মোল্লা স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে ধর্ষণ করেছে এবং এই ধর্ষণের কথা সে আদালতে স্বীকারও করেছে। বরগুনায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুম করেছে পাথঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চার নেতা। আর রাজশাহীতে শিশু ও চুয়াডাঙ্গায় মদ্যপ অবস্থায় তরণীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে গণধোলাই খেয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা। দেশের বেশির ভাগ ধর্ষণ ও খুনের সাথে সরকার দলীয় লোকজন জড়িত তা বার বার গণমাধ্যমের কল্যাণে জনগন দেখছে। এর আগেও জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করে ছাত্রলীগ নেতা জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল। তাদের ধর্ষণ ও খুনের ধরণ এবং মাত্রা আইয়্যামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত তার কোনটিরই সুষ্ঠ বিচার হয়নি। ফলে উৎসাহ পেয়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের লোমহর্ষক অপকর্ম বেড়েই চলেছে। যা গোটা জাতিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। তরুণী,শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা শঙ্কায় দিনরাত যাপন করছে।
তিনি বলেন, ধর্ষণের মত জঘন্য অপকর্ম ধারাবাহিক ভাবে করলেও সরকার ও প্রশাসনের অবহেলার কারণে এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত দলীয় সন্ত্রাসীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পুলিশের পাশ কাটানো ভূমিকায় মনে হয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাছে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানীর লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। কিন্তু এদেশের ছাত্রজনতা এই তাদের জান-মাল ইজ্জত জঙ্গিবাদী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়। সরকার ও পুলিশ প্রশাসন যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অনৈতিক মদদ অব্যাহত রাখে তাহলে অভিশপ্ত অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে ছাত্রসমাজ দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। আমরা সরকারে প্রতি আহবান রেখে বলতে চাই, নোয়াখালী সূবর্ণচরসহ সারাদেশে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত ও চিহ্নিতদের খুঁজে কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।