৯, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

ঝালকাঠির গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও শোনা যায় না ঢেঁকির ঢাঁকুর ঢুঁকুর শব্দ

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

ঝালকাঠির গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও শোনা যায় না ঢেঁকির ঢাঁকুর ঢুঁকুর শব্দ


নাঈমুর রহমান শান্ত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
“ও ধান ভানিরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া,
ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া ।
ও ধান ভানিরে……….।’’ ঐতিহ্যবাহী এই গানটি যুগের পর যুগ মনে থাকবে সবার কিন্তু গানের মূল উপকরন কাঁঠের ঢেঁকি এখন বিলুপ্তির পথে। একসময়  ঢেঁকিতে নতুন ধান ভানা, চাউল তৈরি, গুড়ি কোটা, চিড়া তৈরি, মশলাপাতি ভাঙ্গানোর কাজ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের অংশ জুড়ে ছিল। এমন কি যার বাড়িতে ঢেঁকি আছে সেই বাড়িতে চাল ভাঙ্গানোর জন্য দুই দিন আগেই সিরিয়াল দিতে হতো। গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল ঢেঁকি। গ্রামের বিত্তশালীদের বাড়ীর ঢেঁকিতে ধান ভানতো দরিদ্র মহিলারা। সেখান থেকে পাওয়া চাল দিয়েই তাদের সংসার চলে যেতো। ঢেঁকিতে ধান ভানতে গিয়ে গৃহবধূরা বিভিন্ন ধরনের হাসি-তামাশার কথা বলতো ও গান
গাইতো।

শক্ত ও ভারী হওয়ায় গাবগাছ দিয়ে তৈরী করা হয় ঢেঁকি। খেঁজুরগাছ কিংবা তালগাছ কাতলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুটি কাতলার সাথে আটকানো থাকে ঢেঁকিটি। ঢেঁকির পিছনের দিকটা চেপ্টা আর মাথার দিকে থাকে একটি শুড়। একে মুষল বলে। মুষলের শেষ প্রান্তে লাগানো থাকে লোহার আংটা। ধান বা চাল রাখার জন্য একটি গর্ত থাকে। গর্তটিকে আঞ্চলিক ভাষায় লোট বলা হয়।

ঝালকাঠির গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও শোনা যায় না ঢেঁকির ঢাঁকুর ঢুঁকুর শব্দ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলার কল্যানকাঠী গ্রামের বাসিন্দা কহিনূর বেগম বলেন,” একসময় দিনরাত ঢেঁকিতে ধান ভানতাম। ডিজেল আর বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই চিরচেনা ঢেঁকি। সেই সাথে ভাতের স্বাদও 
কোথায় উড়ে গেছে।”

বার মাসে তের পার্বনের বাংলাদেশে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি বিলুপ্ত হলেও প্রবাদ বাক্যটি হয়তো থেকেই যাবে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে