৮, জুলাই, ২০২০, বুধবার | | ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পিছিয়ে পড়া অনেক নারী-পুরুষ এখন কর্মমুখী

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পিছিয়ে পড়া অনেক নারী-পুরুষ এখন কর্মমুখী

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি (আশিক) রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তালুক হাবু গ্রামের একসময়ের অভাবপীড়িত ও পিছিয়ে পড়া অনেক নারী-পুরুষ এখন কর্মমুখী হয়ে উঠেছেন। এই গ্রামে তৈরি বেনারসি শাড়ি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন। গ্রামটি এখন বেনারসি পল্লি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বিসিক সূত্র জানায়, বছর তিনেক আগে এ গ্রামের বেনারসিশিল্পের ওপর প্রথম আলোয় একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) তাঁতিদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়।
ইতিমধ্যে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে তাঁতিদের সহযোগিতা করেছে বিসিক। সেখানে বিসিকের প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে; ৪৫ জন তাঁতির ৬৭টি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি তাঁতি পরিবারকে স্বল্পসুদে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিসিকের পক্ষ থেকে ২৮০ জনকে এক মাসের জন্য নকশা, উৎপাদন, বিপণনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রথম গ্রামে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুটি তাঁত বসিয়ে শাড়ি বুননের কাজ শুরু করেন। তাঁর দেখাদেখি এখন সেখানে তাঁত বসেছে ৬৭টি। আবদুর রহমান জানান, তিনি ঢাকার মিরপুরে বেনারসি শাড়ি বুননের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর গ্রামে এসে নিজের উদ্যোগে গ্রামের নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বেনারসি তাঁতশিল্পে উদ্বুদ্ধ করেন।
তাঁতমালিকেরা জানান, বর্তমানে বেনারসি পল্লিতে গ্রামের প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এখানকার উৎপাদিত শাড়ি ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে প্রতিটি শাড়ি দেড় হাজার টাকা থেকে ৬০০০ টাকায় বিক্রি হয়। একেকটি শাড়িতে লাভ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। তবে সুতা ও জরির দাম বেড়ে যাওয়ায় শাড়ির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের তালুক হাবু গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে ২০০ পরিবারের সদস্যরা তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আবদুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি শাড়ি তৈরির কাজ তদারক করছেন। শ্রমিক মাসুদার রহমান জানান, একটি শাড়ি বুনতে সময় লাগে তিন দিন। মাসে প্রায় সাত থেকে আটটি শাড়ি তৈরি করা যায়। প্রতিটি শাড়িতে মজুরি পাওয়া যায় ৭০০ টাকা। শ্রমিক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আগোত হামার এই কাজের জন্যে ঢাকাত যাওয়া লাগছিল। এখন বাড়িত বসি থাকিয়া কাজ করতোছি।’
আবদুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তারের পাঁচটি তাঁত। তিনি বলেন, গ্রামের অভাবী মানুষগুলো এখন কর্মমুখী হয়ে উঠেছে। এখন গ্রামে অভাব নেই।
গজঘণ্টা ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, এই গ্রামে প্রথমে আবদুর রহমান তাঁত বসিয়ে বেনারসি শাড়ি বুনেছেন। এখন তাঁর দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই এই কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। গ্রামের দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করেছে।
এখানকার বেনারসি শাড়ির ক্রেতাদের বেশির ভাগই ঢাকার মিরপুর এলাকার। ঢাকা থেকে অনেক ব্যবসায়ী এসে এখান থেকে শাড়ি কিনে নিয়ে যান। ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী আবদুল গণি বলেন, ‘এখানকার বেনারসি শাড়ির মান ভালো হওয়ায় আমরা কয়েক বছর থেকে এখান থেকে শাড়ি কিনছি।’
বেনারসি প্রকল্পের পরিচালক ও রাজশাহী বিভাগীয় বিসিকের পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষকে তাঁতশিল্পে কর্মমুখী দেখে ওই এলাকায় বিসিকের উদ্যোগে জমি কিনে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রশিক্ষণ ও বিপণন কেন্দ্র ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে।