২৯, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রাষ্ট্রপতি বরাবর পেশকৃত স্মারকলিপিতে কি ছিল

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

রাষ্ট্রপতি বরাবর পেশকৃত স্মারকলিপিতে কি ছিল

জি এম শরীফ মাছুম বিল্লাহহাইমচর প্রতিনিধি, চাঁদপুরঃ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। অনেকেরই প্রশ্ন কি লিখা ছিল সে স্মারকলিপিতে।মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর পেশকৃত স্মারকলিপি নিম্নরূপ।
বরাবর,মহামান্য রাষ্ট্রপতিগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশবঙ্গভবন, ঢাকা।
বিষয় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ নিরাপদ ভোট প্রদানের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে- স্মারকলিপি
মহামান্য রাষ্ট্রপতিআসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠনকল্পে আয়োজিত সংলাপে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আপনার বরাবরে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ইতিপূর্বে পেশ করেছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। তবুও আপনার মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে কমিশনের দেওয়া আশ্বাস এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথিত- তার উপর আস্থা রাখার প্রতিশ্রুতির উপর বিশ্বাস করে ২০১৪ সালের একতরফা ভোটার বিহীন সংসদ নির্বাচন, সিটি করপোরেশন সমূহের নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনসহ নির্বাচনের শত তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও অনেক আশা নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি;ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থীরা ৩০ ডিসেম্বর’১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত কথিত নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ২৯৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দেশের প্রায় আসনেই প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ২৯ ডিসেম্বর’১৮ তারিখ রাতেই সরকারদলীয় ক্যাডাররা ৩০-৭০% ব্যালট পেপারে নৌকার সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে ফেলে। হাতপাখা মার্কার প্রার্থী ও কর্মীদের উপর হামলা চালায়। ভোট সেন্টার দখল করে নেয়। ভোট কেন্দ্রে এজেন্টদেরকে প্রবেশ করতে দেয়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদেরকে অপমান করে বের করে দেয়। ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে মহাজোটের মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। ভোটারদেরকে ভোট দানে বাধা প্রদান করে নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রতীকে ভোট দিতে দেয়নি। হাতপাখার এজেন্ট, ভোটার ও কর্মীদের মোবাইল নম্বর রেখে দিয়ে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করা হয়। পোলিং এজেন্টদেরকে গুম ও পুলিশ কর্তৃক অযথা গ্রেফতার করার হুমকিসহ নানা অনিয়মে নির্বাচনকে চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় গত ৩০ ডিসেম্বর’১৮ তারিখে নির্বাচনের নামে দেশে যা ঘটেছে তাকে কোনোভাবেই নির্বাচন বলা যায় না। এটা ছিল নির্বাচনের নামে প্রহসন এবং জনগনের অর্থ অপচয়ের মাধ্যমে জনগণের সাথে প্রতারনা। এরূপ একপেষে ও নিয়ন্ত্রিত কথিত নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। তাই ৩০ ডিসেম্বর’১৮ তারিখের কথিত এই নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি;এ পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর’১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত কথিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন তফসিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করার জন্য আপনার কাছে দাবী জানাচ্ছি এবং স্বাধীন ভোটাধিকারসহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের ক্ষোভের নিরসন না করে নির্বাচন কমিশন নতুন করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা না করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি;আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা মানুষের স্বাধীন ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি জনগণের বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রনে উদ্যত হয়েছে। একটি সভ্য ও স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা কিছুতেই তা মেনে নিতে পারি না। কোন অবস্থাতেই মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়ার এখতিয়ার কারো নেই।অতএব, জাতির অভিভাবক হিসাবে জনগণের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবী পূরণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের যাবতীয় মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে দেশের কল্যাণে সঠিকভাবে কাজ করার তাওফিক দান করুন।.ওয়াসসালামমুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমআমীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ