২৪, নভেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার কোরআন শিক্ষার মক্তব

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৯

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার কোরআন শিক্ষার মক্তব

জি এম শরীফ মাছুম বিল্লাহহাইমচর প্রতিনিধি, চাঁদপুরঃ
গ্রাম বাংলায় প্রতিদিন সকালে মুসলিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হতো। ঘুম থেকে উঠেই ছোট ছোট শিশুরা কোরআন বুকে মসজিদে যেতো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সেই কোরআন শিক্ষার মক্তব। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা আর আলিফ, বা, তা এর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে না জনপদ।গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কোরআন শুদ্ধ করে জানে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরনী। যাতে বাড়ি ঘর কোরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মুসলিম এই রাষ্ট্র থেকে।মক্তব আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পাঠশালা বা বিদ্যালয়। শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌল জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো এ কোরআনি মক্তব।এখান থেকে শিশুরা কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ-রোজার নিয়ম কানুন, জরুরি মাসআলা-মাসায়িল, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে।
কিন্তু এমন পাঠশালা থেকে এখন আর অবধারিত রোজ সকালে কোরআনের আওয়াজ কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না। শিশুদের অভিবাবকদের অবহেলার কারনে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।যার কারনে এলাকার শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের মুসলিম শিশুরা। বাংলাদেশে কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখেছি, কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে।আবার কোথাও কোথাও যা-ও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নামে মাত্র চলে এসব কোরআন শিক্ষার পাঠশালা।
কয়েকজন ইমাম সাহেবের সাথে মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিভাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। বেশিরভাগ শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে কোচিং অথবা কিন্ডার গার্টেনে চলে যায়।  ক্লাসের সময় হয়ে যায় তাদের। এভাবে চলতে থাকলে ইসলামী বুনিয়াদি শিক্ষার এ অবারিত ও ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। পরিণত হতে পারে অতীত ইতিহাস। তাই এখন থেকেই আমরা সোচ্চার না হলে এক সময় এই মক্তবে কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র হারিয়ে যেতে পারে।