১৩, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ফেনীতে বৃদ্ধা মা’র চিকিৎসায় মেডিকেল টিম গঠন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সন্তানদের থেকে মুচলেকা আদায়

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

ফেনীতে বৃদ্ধা মা’র চিকিৎসায় মেডিকেল টিম গঠন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সন্তানদের থেকে মুচলেকা আদায়

ইমাম হোসেন শাকিল (জেলা প্রতিনিধি, ফেনী):ফেনীতে অশিতিপর বৃদ্ধা মা মৃদুলা রাণী সাহার চিকিৎসায় ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অমানবিক আচরনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য মৃদুলা রানীর ৩ ছেলে ১ মেয়েকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সন্তানদের থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালম আজাদ।

ফেনী মডেল থানার এস.আই আবদুল আলিম বলেন, মায়ের সাথে সন্তানদের অমানবিক আচরনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য বৃদ্ধা মায়ের ৫ সন্তানকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডাকা হয়। তিন ছেলে টুটুল সাহা, সুশান্ত সাহা, বাপ্পি সাহা, মেয়ে শর্বরী সাহা বুধবার দুপুরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করেন। ছেলেরা বলেন, তারা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন, গত কয়েকদিন খবর নিতে পারেন নি। এসময়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার এমন ধিকৃত কর্মকান্ডের জন্য সন্তানদের ভৎসনা করেন। তিনি সন্তানদের কাছ থেকে লিখিত মুছলেকা নেন। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না বলে অঙ্গীকার নেন। এছাড়া পাশ্ববর্তী বাড়ির অধিবাসী ফেনী সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহাকে মা মৃদুলা রাণী সাহার সন্তানরা সঠিকভাবে দেখভাল করছে কিনা বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব দেন পুলিশ সুপার।

ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়ের প্রধান সমন্বয়ক মঞ্জিলা আক্তার মিমি বলেন, অসহায় মায়ের পাশে আছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়ের সদস্যরা। মৃদুলা রাণী সাহার সার্বিক দেখাশুনা মাধ্যমে সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, বৃদ্ধা মায়ের সাথে অমানবিক আচরণের জন্য সন্তানদের কাছ থেকে মুছলেকা ও অঙ্গিকারনামা নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতেও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার করিব জানান, বৃদ্ধা মা ভবিষ্যতে স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে ভূগতে পারে। তাকে অবজারবেশনে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আবু তাহের ভূঞা, সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কুমার শীল ও আবাসিক চিকিৎসক জয়দেব সাহাসহ ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৃদুলা রাণী সাহার এমআরআই, আল্টাসনোগ্রাফী, রক্তের কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত ; দীর্ঘ ৪ বছর ধরে মধুপুরের একাকি একটি বাড়িতে থাকেন অশিতিপর বৃদ্ধা মা। বিসিএস ক্যাডার উচ্চ শিতি ও বৃত্তবান ছেলেরা থাকেন স্তী পরিজন নিয়ে অনত্র। তার বড় ছেলে বাপ্পি সাহা ও বিপুল সাহা ফেনী শহরের চালের আড়তের মালিক। অপর ছেলে সুশান্ত সাহা বিসিএস ক্যাডার থাকেন কক্সবাজার। (অতিরিক্ত উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার)। মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শর্বরী সাহা ও সুমি সাহা দুইজনই গৃহিনী থাকে শ্বশুরালয়ে। অসুস্থ্য মায়ের স্থান হয়নি কোন সন্তানদের কাছেই।