২৫, জানুয়ারী, ২০২০, শনিবার | | ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

নাব্যতা সঙ্কট আর কচুড়িপানায় বাঘারপাড়ার চিত্রা নদী

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০১৯

নাব্যতা সঙ্কট আর কচুড়িপানায় বাঘারপাড়ার চিত্রা নদী

শান্ত দেবনাথ, বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা এককালের উত্তাল চিত্রা নদী আজ স্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে। নাব্যতা সঙ্কট আর কচুড়িপানায় চিত্রা নদীকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নদীর তলদেশে পলি জমায় স্রােতের স্বাভাবিক অবস্থা বিপর্যস্থ হচ্ছে। 
চিত্রা নদীটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি । এটি ঝিনাইদহ জেলা হয়ে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের কটুয়াকান্দি ভায়া খাজুরা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন হয়ে নড়াইল জেলার মাইজপাড়া, গোবরা পেরুলীর হয়ে নবগঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য আর ২০০ ফিট প্রস্থের চিত্রা নদীর গড় গভীরতা ১৫ ফিট।
নদীর দু’পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবি, অতিদ্রুত নদীর ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। সরেজমিনে চিত্রা নদী এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন কোনো ড্রেজিং না করায় নদীর তলদেশে পলি জমে এর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে এককালের উত্তাল চিত্রা নদী ছন্দ হারিয়ে আজ মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মৎস্য সম্পদ। অনেক জেলে পরিবার পেশা ছেড়ে বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। 
চিত্রা নদীর তীরবর্তী দু’পাশের প্রায় ২১০ হেক্টর জমি নদীর পানির সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে মূল অববাহিকায় পানি না থাকায় সেচ সঙ্কট বেড়েই চলেছে। কৃষকেরা আগের মত আর নদীর পানি দিয়ে সেচ ব্যবস্থা করতে পারছে না। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। স্থানীয়দের অভিমত, নদীটি দ্রুত খনন করা হলে সেচ ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী। চিত্রা নদীর মধ্যে ৫ হেক্টর জায়গা নিয়ে দু’টি অভায়াশ্রম রয়েছে। অভায়াশ্রম দু’টি ড্রেজিং করা হলে এ এলাকার মানুষের মাছের চাহিদা অনেকটায় পূরণ হবে। 
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরুন হুসাইন সাংবাদিকদের জানিয়েছে, মৃতপ্রিয় নদীটি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।