৮, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

মির্জাগঞ্জে ক্যাটালগ স্টাইলে চুল কাটা ও বাজারে টিভি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

মির্জাগঞ্জে ক্যাটালগ স্টাইলে চুল কাটা ও বাজারে টিভি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা


খান মোঃ আসাদ উল্লাহ, মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী জেলাধীন মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ক্যাটালগ স্টাইলে চুল কাটা ও বাজারে টিভি চালানোর উপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলার সমগ্র মানুষের জন্য উক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে কোনো তরুণ ও যুবক স্টাইল করে চুল কাটাতে পারবে না। বর্তমান যুগে অনেক ধরণের স্টাইল করে চুল কাটা হয়। যার বেশীরভাগই উদ্ভট ও বিশ্রী দেখতে। এসব উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটাকে কিছুটা অসামাজিকভাবে হিসেবেই দেখছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের মতে কোনো ভদ্রলোক এসব উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটতে পারেনা। সকলকে সাধারণভাবে ছোট করে চুল কাটার আদেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি কেউ চুল খুব বেশী বড় করে রাখতেও পারবে না। সকলকে চুল কাটা ও রাখার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। নাপিতদেরকেও ঐসমস্ত (ক্যাটালগ) স্টাইলে চুল কাটতে নিষেধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি (বুধবার) মির্জাগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া গ্রামের দুই তরুণ বিপিএল খেলা নিয়ে বাজি ধরে। তারা গাবুয়া বাজারের একটি দোকানে বসে বিপিএল খেলা দেখতেছিলো। বাজিতে হেতে যাওয়ার পর বাজির নির্ধারিত টাকা চাওয়া হলে বাজিতে হেরে যাওয়া লোকটি বলেন তার কাছে কোনো টাকা নেই। টাকা প্রদান করতে অস্বীকার করায় হেরে ছেলেটির মাথায় লাকড়ি দিয়ে আঘাত করে অপর ছেলেটি। আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। 
বাজিতে হেরে যাওয়া তরুণ মৃত্যুবরণ করায় এব্যাপারে কঠিন অবস্থান গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। আর একারণে বাজারের দোকানগুলোতে টেলিভিশন চালানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মির্জাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এই একই কারণে বর্তমান যুগের নানান রকমের উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বলা হয় এই সমস্ত স্টাইলে যেসব ছেলেরা চুল কাটে তারাই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই এই ক্যাটালগ স্টাইলে চুল কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
চুল কাটার উপর এমন নিষেধাজ্ঞা তরুণ সমাজ খুব একটা ভাল চোখে না দেখলেও, এই নিষেধাজ্ঞাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন প্রবীণরা। অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।