২, এপ্রিল, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১

দশ বছর বয়সেই এনআইডি

আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

দশ বছর বয়সেই এনআইডি

ইমাম হোসেন শাকিল (জেলা প্রতিনিধি, ফেনী): বয়স ১০ হলেই নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে এসে অস্থায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বছরের মার্চ-এপ্রিল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শূন্য থেকে সব বয়সীদের অস্থায়ী এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির। তবে বিষয়টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান এনআইডি উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

ইসি সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের জন্য ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আই রিস ও দশ আঙুলের ছাপ দেওয়ার মেশিন সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসেই রয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে এবার স্কুলগুলোকে প্রাধান্য দেবে প্রতিষ্ঠানটি। বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই লেখাপড়া করে। তাই বাড়ি বাড়ি না গিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন ফরম পাঠানো হবে। সেখানে শিক্ষকরা পূরণ করে দেবেন। আর যারা পড়াশুনা করে না, তাদের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঠিক করে উপজেলা/থানা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে নিবন্ধন করানো হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ৫(২) অনুযায়ী, ভোটার নয়, এমন নাগরিকদের নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত সাপেক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে পারবে কমিশন। এ হিসেবে সব বয়সীদের নিবন্ধন তথ্য সংগ্রহ ও তাদের কার্ড দেওয়া কমিশনের এখতিয়ার।

এনআইডি উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এখনো পরিকল্পনাধীন রয়েছে; কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হলেই পরে এ কার্যক্রম চালু হবে । তিনি জানান, অনেক সময় স্কুল-কলেজ পড়–য়াদের নাম ও বয়স এনআইডিতে দেওয়া নাম ও বয়সের সঙ্গে মেলে না। এনআইডি না থাকায় সমস্যায় পড়েন। এসব বিষয় মাথায় রেখে ইসি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইসির বর্তমান সার্ভারের বিকল অবস্থা, সেক্ষেত্রে নতুন তথ্য কীভাবে সমন্বয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্ভার আপ করার জন্য কাজ চলছে আর নতুন তথ্য জমা রাখার জন্য সার্ভার নিয়ে আরও কাজ করা হবে। এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ১০ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় এনে এ বছর অস্থায়ী লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এরা ১৮ পূর্ণ করলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। তখন তাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। ২০১৭ সালে প্রথমে ১৪ বছর বয়সীদের তথ্য নেওয়ার কথা ভেবেছিল নির্বাচন কমিশন। তখন ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ পূর্ণ হবে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা ছিল। যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিতর্ক এড়াতে ২০১৮ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেনি ইসি। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে প্রথমবারের মতো ১৮ বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই হিসাবে, তখন যাদের জন্ম ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, এ ধরনের ১৫ বছর বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইসি। বর্তমানে দেশে ১০ কোটি ৪২ লাখের মতো ভোটার রয়েছেন।