১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রসঙ্গ একুশ চিতলমারীতে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন চিতলমারী ( বাগেরহাট )থেকে অলোক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

প্রসঙ্গ একুশ চিতলমারীতে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন চিতলমারী  ( বাগেরহাট )থেকে অলোক

একুশের চেতনাকে বুকে লালন করে বেঁচে আছে লাখো বাঙালি ।ভ্রাতিত্বে বন্ধন সদা জাগ্রত অন্তরে।বুকে একরাশ কষ্ট নিয়ে নগ্ন পায়ে কালো কাপড়ে আজো চলছে ভাইদের স্মরন।ছাত্র, কৃষক, কুলি,মজুর,আবাল বৃদ্ধ বনিতার ঢল নামে আজো রাত বারোটা এক মিনিটে ।কাঁপা কাঁপা  হাত থেকে ফুল যায় হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের চরণে।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলেও প্রায়  হাজার মাইলের ভৌগলিক দূরত্ব,ভাষা ও সংস্কৃতি সহ অমিল থাকা র পরেও ধর্মীয় মিলের কারনে বাংলাকে পাকিস্তানের একটি  প্রদেশ করা হয় ।১৯৪৭এর ডিসেম্বরের এক শিক্ষা সন্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা ঘোষনার ফলশ্রুতিতে দূর্বার আন্দোলন।লাঠিচার্জ, গুলি, গুম, হত্যা ,গুমের প্রাপ্ত ফল মহান একুশ।শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা মেডিকেলের শহীদ মিনার আজ সারা বাংলাদেশে।তাইতো কবির কবিতায় “এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে নাকো তুমি,সে যে আমার জন্ম ভূমি, আমার জন্ম ভূমি ।”

  মহান একুশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে প্যারিসের ইউনেস্কোর সভায় ।এ অর্জন সারা বাঙালীর গর্ব।রাত বারোটা এক মিনিটে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল প্রদান করেন সর্বস্তরের জনগণ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ।শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামীলীগ,আওয়ামীলীগের বিভিন্ন আঙ্গিক সংগঠন, উপজেলার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

  চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২১শেষ ফেব্রুয়ারি পালনের খবর পাওয়া গেছে । ছাত্র ছাত্রীদের ফুল দিয়ে  শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায় ।এসময়  উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ।

 সন্তোষপুর মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ে রাত ১২.০১  মিনিটে  বিদ্যালয়ের সভাপতি  বাবু সুশান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় শিক্ষকদের নিয়ে  শ্রদ্ধা  নিবেদন করেন। ৫.৩০ মিনিটে প্রভাতফেরীর মাধ্যমে শুরু হয় কার্যক্রম ।ছাত্র ছাত্রীদের মিছিল শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষক বৃন্দ।কবি সাহিত্যিক বাবু জুড়ান চন্দ্র মন্ডল, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে আগত অতিথি আতিয়ার শেখ ,মুক্তিযোদ্ধা অদুদ তালুকদার, সুধী সমাজ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বৃন্দ,,সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী, কমিটির সভাপতি শিশির মজুমদার সহ প্রাক্তন শিক্ষার্থী বৃন্দ।বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য জনাব রসুল মাঝি ।সকালে বাগেরহাট থেকে  এসে প্রধান শিক্ষিকা ছায়া রানী ব্রক্ষ্ম ফুল দেন। রমেশচন্দ্র জিনিয়াস চাইল্ড স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী ,অভিভাবক,শিক্ষক,পরিচালনা কমিটির সদস্য বৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এসময়  ২১শের তাৎপর্য তুলে ধরেন সকল বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের ও দেশকে গড়ার আহব্বান জানান ।

ভাষা বাংলা পেলেও এখনো অনেক পাকিস্তানী ভাবধারার প্রতিষ্ঠান ভাষা দিবসপালন করে না।সরকারি  নির্দেশনা  থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুষ্ঠান পালন করে না।এমনকি কোন কোন বিদ্যালয় এ অনুষ্ঠান নাম মাত্রেই পালন করে। নিজেদের বিবেক আর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়ানো যেত বলে সুধীর সমাজের আভিমত।

 সর্বশেষে  শহীদের  আত্মার মাগফেরাত কামনা  করে দোয়া করা হয় এবং  শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরন করা হয় ।