২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

অাপনি বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মডেল সৃষ্টিকারী অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অাপনি সারা বিশ্বে অাজ সমাদৃত। ইতোমধ্যে অাপনি মাদার অব হিউম্যানিটি, ধরণী কন্যা, সাহসী নারীসহ অসংখ্য গুণে গুণান্বিত হয়েছেন। অাপনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সুযোগ্য উত্তরসূরী। সারা বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে স্কুল সরকারি করায় অাপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

অাপনার এ অনন্য সাধারণ কার্যাবলী বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোপূর্বে বাংলার ইতিহাসে এতবড় সাহসী পদক্ষেপ কোনো সরকারই গ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষাদীক্ষায় পৃষ্ঠপোষণকারী মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অাপনি শিক্ষক সমাজের মানোন্নয়নে ব্যাপক কার্যাবলী হাতে নিয়েছেন। অাপনার এ সকল অবদানের চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অাত্তীকরণ ও ছাত্রছাত্রীদের সরকারিভাবে বেতন ও অন্যান্য ফি নির্ধারণের মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘ প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজ অাজ হতাশাগ্রস্ত। এই দীর্ঘসূত্রীতায় অামাদের অনেক শিক্ষক একদিকে যেমন চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছেন অন্যদিকে তেমনি অনেকেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন যা অত্যন্ত কষ্টকর।

একটি মাত্র উদাহারণ দেওয়ার চেষ্টা করছি, অামরা সরকারি সূযোগ-সুবিধা পাবো ০৮.০৮.২০১৮ তারিখ থেকে। অামাদের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের পিয়ন অাব্দুল গফফার মৃত্যুবরণ করেন গত ১৬.০১.২০১৯ তারিখ। তার অাত্তীকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এখন তার পরিবার কি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই অজানা। সঠিক সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন হলে তার পরিবার সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে হয়তো সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারতেন! ছাত্রছাত্রীরাও সরকারের এ উল্লেখযোগ্য অবদানের কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেনা। তাদের বেতন ফি চলছে অাগের মতোই। অনেক শিক্ষক চাকুরী থেকে অবসর নিলেও অাত্তীকরণ সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না! এতে করে জটিলতা দিনদিন শুধু বাড়ছেই। পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

অামলাতান্ত্রিক জটিলতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিষ্পেষিত হচ্ছে শিক্ষক সমাজের একটি বৃহৎ অংশ। সবাই এখন শুধু অাপনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। অাপনার কথা কোনো সময়েই অামরা ব্যত্যয় হতে দেখিনি। অাপনার সঠিক নির্দেেশনা ছাড়া কি কোনো কর্মকর্তা এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারবেন? অবশ্যই না। তাই যেসমস্ত কর্মকর্তারা এই সরকারিকণের কাজে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন তাদের কাজে গতি বাড়াতে অাপনার নির্দেশনা মুখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি।

পরিশেষে অাপনার শান্তি, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি যাতে বাংলার অাপামর জনতা অাপনার সান্নিধ্যে থাকতে পারে অারো অনেক দিন।

মো. শরীফ উদ্দিন অাহমদ
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
সরকারি কলেজ স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতি (সকস্বাশিস) বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি।