৮, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এপিএসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এপিএসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের


আসাদ হোসেন রিফাত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ স্থগিত ও লালমনিরহাট-২ আসন (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) থেকে নির্বাচিত সাংসদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির এপিএস মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু সায়ীম।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা। তবে এখনও আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

এপিএস মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কাজে প্রভাব খাটানো, হুমকি-ধামকি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগী হয়েও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু সায়ীম। তিনি আরো বলেন, এপিএস মিজানুর রহমান আদিতমারীতে সরাসরি উপস্থিত থেকে এবং পরে ঢাকায় ফিরে টেলিফোনে পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছিলেন। তাঁর প্রভাবের কারণে আদিতমারী ও পাটগ্রামে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উচ্ছাস দেখা গেলেও প্রার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

এদিকে গত ৬ মার্চ আদিতমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ইমরুল কায়েস ফারুক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এপিএস মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ১০ মার্চ রবিবার প্রথম দফার ভোট গ্রহণের সাথে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। 
  সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এপিএস মিজানুর রহমান আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। দশম জাতীয় সংসদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির এপিএস হিসেবে নিয়োগ পান। নুরুজ্জামান আহমেদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পুনঃরায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর আবারও মিজানুর রহমানকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন মন্ত্রী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব খাটাচ্ছিলেন এপিএস মিজানুর রহমান। শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরী বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এপিএস মিজানের বিরুদ্ধে মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘টক অব দ্য লালমনিরহাটে’ পরিণত হয়েছে মামলার ঘটনাটি। সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এপিএস মিজানুর রহমানের প্রভাব খাটানোসহ নানান ধরনের মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের কাহিনী-কেচ্ছা লোকজনের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। 

লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আদিতমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মঞ্জুরুল হাসান বলেন, আদিতমারী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান স্যারের এপিএস মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ সংক্রান্ত কমিশনের চিঠি শুক্রবার রাতে পেয়েছি। এপিএসের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলার জন্য কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু সায়ীমের নিকট। শুক্রবার রাতেই মামলা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে এপিএস মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।’