২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

নবাবগঞ্জে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯

নবাবগঞ্জে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

জাকিরুল ইসলাম,বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃদিনাজপুরের নবাবগঞ্জ রিপোর্টাস ইউনিটিতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে ধর্মব্যবসায়ীদের উস্কানিতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের আসামিদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সনের ১৪ মার্চ নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা, বাড়িঘর লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ রিপোর্টাস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। 
এতে মূল বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের দিনাজপুর দক্ষিণে বিরামপুর উপজেলার সভাপতি হাসান আলী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হেযবুত তওহীদের দিনাজপুর দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি মমিনুর ইসলাম।
তারা বলেন, ধর্মব্যবসায়ীরা হেযবুত তওহীদকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তার কারণ হেযবুত তওহীদ এদেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদসহ ধর্মের নামে প্রচলিত প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করে আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। হেযবুত তওহীদের এই সত্য তুলে ধরার দরুন ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে, জনসাধারণের উপর থেকে তাদের প্রভাব হারিয়ে যাচ্ছে।
মূল বক্তব্যে বলা হয়, তিন বছর আগে সোনাইমুড়িতে স্থানীয় দাঙ্গা সৃষ্টিকারী আলেমরা নিকটবর্তী এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে তাদের ছাত্রদেরকে নিয়ে হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের বাড়িতে আক্রমণ করে।
ধর্মব্যবসায়ীরা প্রোপাগান্ডা চালায় যে, ‘হেযবুত তওহীদ খ্রিষ্টান, তারা গির্জা নির্মাণ করছে’। তারা সকাল থেকে স্থানীয় কয়েকটি মসজিদের মাইকে বলতে থাকে যে, ‘গির্জা ভাঙ্গো খ্রিস্টান মারো।’ তাদের উসকানিতে স্থানীয় জামায়াত,শিবির, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সন্ত্রাসীরাসহ মাদ্রাসার উন্মত্ত ছাত্র-শিক্ষকগণ নির্মাণাধীন মসজিদটিকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। উপস্থিত হেযবুত তওহীদের প্রত্যেকে মারাত্মকভাবে আহত করে। সন্ত্রাসীরা সোলায়মান খোকন ও ইব্রাহীম রুবেল নামে হেযবুত তওহীদের দুজন সদস্যকে জবাই করে, চোখ উপড়ে, হাত পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। এক পর্যায়ে পেট্রল ঢেলে লাশের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। যখন পুলিশ আহত অবরুদ্ধ মরণাপন্ন হেযবুত তওহীদের কর্মীদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তোলে তখন তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হত্যা করার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও বিডিআর বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীরা হামলা চালাতে থাকে।হেযবুত তওহীদের অভিযোগ, এই ঘটনায় তারা আক্রান্ত হলেও আক্রমণকারীদের সাথে তাদেরকেও মামলার আসামি করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই প্রকাশ্যে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। এই সন্ত্রাসীরা আবারও হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। 
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে সোনাইমুড়ী হত্যাকান্ডর সাথে জড়িত সমস্ত সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করা হয়। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। 
এসময় নবাবগঞ্জ রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সুলতান মাহামুদ, হাসিম উদ্দিন (চ্যানেল এস) হাফিজুর রহমান (যায়যায়দিন) আব্দুল মান্নান (জনতা) জুলহাজুল (কলকাতা টিভি) অলিউর রহমান মিরাজ (ভোরের দর্পন)নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, জাকিরুল ইসলাম জাকির (সকালের সময়) বিরামপুর, নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।