১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

নবাবগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় আসামীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: মে ৫, ২০১৯

নবাবগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায়  আসামীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বিরামপুর,দিনাজপুর,প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বালু খননকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা আঃ লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শর্টগানের লাইসেন্স বাতিল ও মাললার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের   দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আঃ লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহ। 
রবিবার (৫ এপ্রিল) জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দীলিপ কুমার ঘোষ, লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন মাহমুদপুর ইউনিয়নের করতোয়া (মাইলা) নদী খনন কাজ স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নেন আতাউর রহমান ও তার ছেলে। এই কাজে অনিয়ম ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কিছু জমি পড়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানায় এবং সিডিউল মোতাবেক কাজ করার অনুরোধ করে। ব্যক্তিগত জমির ব্যপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোন অধিগ্রহণ করার নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়, এসময় আতাউর রহমানের ছেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধুমকি দিতে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিনাজপুরকে অবহিত করলে তিনি নিজেই বলে আমি এই বিষয়ে কোন কিছু জানি না । অথচ ৪কোটি টাকার কাজ স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কোন কিছু অবহিত না করে ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে এই কাজের উদ্বোধন এবং খনন কাজ শুরু করেন তিনি। 
স্থানীয় জনতা মুটোফোনের মাধ্যমে আমাদের ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতিকে অবহিত করলে সেখানে তারা উপস্থিত হন। বিষয়টি জানতে চাইলে আতাউর রহমানের ছেলে শফিউল ইসলাম পিলু প্রথমে অশোভন আচরণ সহ মা বাপ তুলে গালিগালাজ করতে থাকে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসেন মারার জন্য। স্থানীয় যুবলীগ ছাত্রলীগসহ সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে পড়ে আতাউর রহমানের ছেলে মুটোফোনে আতাউর রহমানকে মোগরপাড়ায় আসতে বলেন। ঘটনা স্থলে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনীসহ গাড়ি থেকে নেমেই ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা শর্টগান দিয়ে সাধারণ জনগণের দিকে এলোপাতাড়ি গুলে ছুড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলে আমাদের সহকর্মী ২জন মাথা পায়ে গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ছত্রভঙ্গ হলে সাধারণ মানুষের ও সহযোগি সংগঠনের ৩৮টি মোটর সাইকেল তার সন্ত্রাসী বাহিনী ভেঙ্গে ফেলে। এই পর্যায়ে আমরা নবাবগঞ্জ উপজেলা আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি করছি। একই সঙ্গে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।
আওয়ামী পরিবারে ঘাপটি মেরে বসে থাকা এই সুবিধাবাদী, একাধিক মামলার আসামী আতাউর রহমানকে দলীয় সকল কর্মকান্ড থেকে অব্যাহতিসহ প্রশাসন ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার সার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে যে শর্টগান দিয়ে আতাউর রহমান গুলি করেছেন, জনগণের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করেছেন, সেই শর্টগান দ্রুত জব্দ করে লাইসেন্স বাতিল করা ও হামলায় ঘটনায় মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। 
এসময় উপজেলা আঃলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মানিক, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান, সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সাজেদুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম সবুজসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।