১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

নববধূর সাজে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০১৯

নববধূর সাজে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ

১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। জন্মলগ্ন থেকেই বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট ও দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির ভিশন নিয়ে এগিয়ে চলেছে এই দেশের অন্যতম শীর্ষ এ বিদ্যাপিঠটি। হাটিহাটি পা পা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি পাড়ি দিয়েছে ৪০ টি বছর। রাত পোহালেই হেমন্তের স্নিগ্ধ সকালে পা দেবে ৪১ বছরে।

প্রতি বছর এই দিনে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দিবসটি উদযাপন করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

৪১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস সেজেছে নববধূর মায়াময় সাজে। পাল্টে গেছে ক্যাম্পাসের পুরনো চিত্র। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভবন ঝাড়বাতির ঝিকিমিকি আলোয় ঝলমলে হয়ে উঠেছে। পরিষ্কার করা হয়েছে ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি অঙ্গন। মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে রাতের ক্যাম্পাস। বধু সাজের এ দৃশ্য উপভোগ করতে শীত উপেক্ষা করে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত বাইরে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসকে আকর্ষণীয় করে তুলতে শিক্ষার্থীদের আড্ডার কেন্দ্রস্থল ডায়না চত্বরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলা’, স্মৃতিসৌধ, সততা ফোয়ারা এবং শহীদ মিনারকে।

ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে বিশেষ আলোকবাতি। যা বহুদূর পর্যন্ত আলোর ঝলকানিতে ভরিয়ে তুলছে ১৭৫ একরের প্রতিটি প্রান্তর। রাতের আবছায়া অন্ধকার ও আলোকসজ্জা মিলে ক্যাম্পাস যেন নৈসর্গিক রূপ ধারণ করেছে।

২২ নভেম্বর (শুক্রবার) দিবসটি উপলক্ষে পায়রা অবমুক্তরণ, আবন্দ শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অপেন কনসার্টে মন মাতাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমে পড়েছিলাম।  এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে উপভোগ করেছি। ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে  প্রিয় ক্যাম্পাসের নববধূর সাজে ও অন্য আয়োজন খুবই উপভোগ করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘৪১ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে উদযাপন করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’